বাঙালি যখন পাহাড়ে...শুশুনিয়া ভ্রমণ কাহিনী

পাহাড় কার না ভালো লাগে? আবার সেই যাত্রা টা যদি একদিনের অথচ কম খরচে হয়। তবে আর সময় নষ্ট না করে একবার চড়েই ফেলুন শুশুনিয়ার সর্বোচ্চ অংশে। মানে সহজ ভাষায় বড়ো পাহাড় টায়। যার উচ্চতা 1006 মিটার। 

 

সাল টা 2020 অনেক আপদ বিপদ কাটিয়ে আমাদের 9 জন বন্ধু বান্ধব আর দিদি দাদা দের একটা ছোট্ট গ্রুপ প্ল্যান করি শুশুনিয়ার। এটি বাঁকুড়া জেলার অন্তর্গত।  মেদিনীপুর স্টেশন থেকে সকাল 6ta 20er Adra passenger train চেপে বসলাম ছাতনা স্টেশন এর উদ্দেশ্য কারণ শুশুনিয়া যাবার ডিরেক্ট কোনো ট্রেন নেই। তারপর ছাতনা স্টেশন থেকে অটো তে চোড়ে চললাম শুশুনিয়ার পথে। আপনারা চাইলে রূপসী বাঙলা এক্সপ্রেস ট্রেন ধরে বাঁকুড়া স্টেশন এ নেমে বাস এ করেও  আসতে পারেন। 

 

 

মিনিট 20 যাবার পর চোখ পড়লো হালকা কুয়াশা আছন্ন পাহাড়ের টিলা। কিছুক্ষণের জন্য হলেও চোখের পলক থমকে গেলো। সত্যি এই অনুভূতি প্রকাশ যোগ্য নহে। 

আমরা কিছু খাবার যেমন লেবু, জল, ডিম সেদ্ধ, কলা ও বিস্কুট সাথে নিয়ে চললাম ট্রেকিং এর পথ ধরে বড়ো পাহাড়ে। ওঠার রাস্তা টা খুব একটা খারাপ না তুলনামূলক ছোট্ট পাহাড়ে ওঠার রাস্তার থেকে ভালো তাই খুব একটা অসুবিধে হবে না বলেই মনে হয়। রাস্তাটা খাড়াই নুরি পাথর এ ভরা তাই কিছুটা উঠেই হাঁফিএ পড়লাম সবাই। কিন্তু দীর্ঘ 3.30 ঘন্টা হৈ হৈ করতে করতে আর ছবি তুলতে তুলতে উঠেই পড়লাম বড়ো পাহাড় টাই। ওখান থেকে প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে দারুণ লাগলো যদিও ছোট্ট পাহাড় থেকে আরো সুন্দর লাগে। তবে বড়ো পাহাড়ের চূড়ায় রয়েছে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের একটা সুন্দর মূর্তি। 

মূর্তি দর্শনের পর টিফিন সেরে নিচে দিকে একটু নেমে আবার ওই পথেই চললাম ছোট্ট পাহাড়ের চূড়ায়। আসলে বড়ো পাহাড় থেকে ছোট্ট পাহাড় ওঠার রাস্তা রয়েছে সেই পথেই ছোট্ট পাহাড়ে উঠলাম। ওখান থেকে প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে দারুণ লাগলো। অনেক ফটো গ্রাফিও করলাম আমরা। আর হ্যাঁ বড়ো পাহাড়ে ওঠার রাস্তায় কোনও দোকান নেই কিন্তু ছোট্ট পাহাড়ে অনেক দোকান পেয়ে যাবেন যেখানে লেবু জল, cold drinks, juice ইত্যাদি রয়েছে ।

তারপর নিচে নেমে কিছু হালকা খাবার খেয়ে আর চা এ চুমুক দিতে দিতে চললাম বাড়ির পথে। সত্যি বলতে শরৎচন্দ্র থেকে হ্যারি পটার, রবীন্দ্রনাথ থেকে রাসকিন বন্ড শুধু ইমোশন নয় পাহাড়ে  হঠাৎ নামা সন্ধ্যেও রয়েছে অনুভূতিতে মিশে।