আপনি কী জানেন হেডফোনের ইতিহাস? কে আবিষ্কার করল হেডফোন?

হেডফোন লাগিয়ে গান শুনতে কার না ভাল লাগে?
পুরো ভলিউম দিয়ে গান শোনা বা কোন ভিডিও দেখা অথবা আমাদের যেকোন খারাপ পরিস্থিতিতে মনকে ভালো করে দিতে পারে।  হেডফোন আমাদের এই জগত ছেড়ে আমাদের পছন্দের একটা আলাদা দুনিয়াতে নিয়ে যায়।

  আপনারা কি কখনো ভেবেছেন যে এই হেডফোন কিভাবে আবিষ্কার হল?  এটাকে প্রথম কে  বানালো? আর কেই বা প্রথম হেডফোন টা ব্যবহার করল?
প্রথমদিকে এটা কি জন্য ব্যবহার করা হতো?

তাহলে চলুন  হেডফোনের মজাদার ইতিহাস সম্পর্কে আমরা জেনে নিই ......

হেডফোন এর আবিস্কার টেলিফোন আবিষ্কারের পর ১৮৮১ তে হয়েছিল। ওই সময় ইলেকট্রিক সিগন্যালকে সাউন্ড এ কনভার্ট করে শোনার একমাত্র উপকরণ টেলিফোনেই ছিল। আর তারপর টেলিফোনের রিসিভার এর অংশ থেকেই হেডফোনের আইডিয়া আসে।  ১৮৮০ দশকে প্রথম হেডফোন, টেলিফোন অপারেটর এর দ্বারা ব্যবহার করা হয় যদিও  ওটাকে হেডফোন বলা এই জন্য ঠিক হবে না কেননা ওটা তে কেবল একটাই এয়ারপিস থাকতো। আর ওটাকে কাধের উপর রেখে শোনা হতো যার ওজন 4.5 কেজিরও বেশি ছিল। কিন্তু  হেডফোনের শুরু তো এখান থেকেই হয়েছিল।

১৮৫১ সালে এক ফ্রেন্চ ইঞ্জিনিয়ার আরনেস্ট মারকাডিয়ার( Ernest Marcadier) এই হেডফোন এর উপর কাজ করে এবং অনেক রিসার্চ করে ও টেস্টিং করে, এবং পরে খুব ছোট ছোট সাউন্ড ড্রাইভার বানাতে সফল হয়। যেটা খুব সহজেই আমাদের কানে ফিট হয়ে যেত।  ওনার বানানো এয়ারবাডস আজকের সময়ের এয়ারবাডসের এর সঙ্গে খুবই মিল খায়। তাছাড়া ওনার বানানো ইয়ারবাডস এর উপরে রবারের টিপস ও লাগানো হয়েছিল যেটা নএস আইসোলেশন(noice isolation) এর কাজ করত। ওনার খোঁজা এয়ারবাডস আইডিয়াকে আরও বিকশিত করে তোলে আর কাঁধের উপর ধারণ করে হেডফোনের আবিষ্কার ব্রিটিশ কোম্পানি ইলেকট্রিক নেতারা 1894 সালে করা হয়।ওনারা হেডফোনস আবিষ্কার এইজন্য করেছিল যাতে ওনাদের কাস্টমাররা ঘরে বসে কারেন্ট নিউজ বা  থিয়েটারে হওয়া লাইভ পারফরম্যান্স  শুনতে পান। কিন্তু তখনের হেডফোন আজকের হেডফোনের মত ছিল না বরং এটা একদমই আলাদা দেখতে ছিল। আর হেডফোনের নিচে একটি হ্যান্ডেল থাকতো যেটা সব সময় ধরে থাকতে হতো। এরপর এই উপকরণটি উপরে নানান ভাবে ইমপ্রুভমেন্ট করা হয়।

১৯১০সালে আমেরিকানরা যখন রেডিও কমিউনিকেশন এর নতুন নতুন রাস্তা খোঁজ করছিলেন তখন সেই সময়কার একজন ইঞ্জিনিয়ার নাথানিয়েল ব্লাডউইন এক্সপেরিমেন্ট এর ফলে ফাস্ট ভার্শন হেডফোন আবিষ্কার করে ফেলেন। এই হেডফোনগুলোর আজকের সময় ব্যবহার করা হেডফোনের সঙ্গে খুবই মিল খায়। আপনারা এটা জেনে অবাক হয়ে যাবেন যে উনি এটার আবিষ্কারের আইডিয়া রান্নাঘরে কাজ করার সময় পেয়েছিলেন। এরপর তিনি এই হেডফোনটি কে একজন নেভি ইঞ্জিনিয়ার কে দেখান। শুরুতে আমেরিকান নেভি এই বিষয়টিকে ততটা গুরুত্ব দেন না। কিন্তু কিছুটা হলেও পরে তারা লক্ষ্য করেন যে ঐ সময়কার সমস্ত হেডফোনের তুলনায় তার আবিস্কৃত হেডফোন গুলি সাউন্ড কোয়ালিটি উন্নত ছিল। সেগুলো ব্যবহার করাও সহজ ছিল। ওনার আর হেডফোন গুলো সিলেক্ট করে নেয় এবং এই রকমই একশটি হেডফোনস বানানোর অর্ডার দেয়। আর খুব তাড়াতাড়ি এই হেডফোনস আমেরিকান নেভিদের পছন্দের হেডফোনে পরিণত হয়ে যায় এই সময় হেডফোন শুধুমাত্র নেভি অফিসার টেলিফোন অপারেটর রায় ব্যবহার করত।

এরপর এক্সপেরিমেন্ট এর ফলে ফাস্ট ভার্শন লঞ্চের আবিষ্কার করে ফেলেন এই হেডফোনগুলোর আজকের সময় ব্যবহার করা হেডফোনের সঙ্গে খুবই মিল খায় আপনারা এটা জেনে অবাক হয়ে যাবেন যে উনি এটার আবিষ্কারের আইডিয়া রান্নাঘরে কাজ করার সময় পেয়েছিলেন এরপর তিনি এই হেডফোনটি কে একজন ইঞ্জিনিয়ার কে দেখান শুরুতে আমেরিকান নেভি এই বিষয়টিকে ততটা গুরুত্ব দেন না কিন্তু কিছুটা হলেও পরে তারা লক্ষ্য করেন যে ঐ সময়কার সমস্ত হেডফোনের তুলনায় তার আবিস্কৃত হেডফোন গুলি সাউন্ড কোয়ালিটি উন্নত ছিল সেগুলো ব্যবহার করাও সহজ ছিল। ওনার আর সব হেডফোন গুলো সিলেক্ট করে নেয় এবং এরকম আরো একশটি হেডফোন বানানোর অর্ডার দেয়। ১৯৫৮ সালে হেডফোন গুলি সিলেক্ট করে নেয় এব এই রকমই একশটি হেডফোনস বানানোর অর্ডার দেয় আর খুব তাড়াতাড়ি এই হেডফোনস আমেরিকান নেভের পছন্দের হেডফোনে পরিণত হয়ে যায় এই সময় হেডফোন শুধুমাত্র নেভি অফিসার টেলিফোন অপারেটর রায় ব্যবহার করতো।

এরপর হেডফোন ইন্ডাস্ট্রিতে সবথেকে বড় পরিবর্তন হয় যখন স্টেরিও হেডফোন সেট আবিষ্কার করা হয় যদিও এর আবিষ্কার ১৯৩৭ সালে এই হয়ে গিয়েছিল।কিন্তু এটি সবার জন্য ১৯৫৮ সালে পর্যাপ্ত করা হয়। যখন সর্বপ্রথম জন সি কস(John C koss) স্টেরিও হেডফোন তৈরি করেন। যার নাম ছিল কস( কস) sp3। এরপর থেকেই হেডফোন কে লোকেরা মিউজিক এবং এন্টারটেনমেন্টের জন্য ব্যবহার করতে থাকেন। এই হেডফোন লঞ্চের কয়েক বছর পরেও  কস কোম্পানি হেডফোনস  ইন্ডাস্ট্রিতে রাজত্ব করতে থাকে। উনাদের এই আইডিয়াকে আরো অন্যান্য কোম্পানিরা নকল করতে থাকে। আর আরো ভালো উন্নত স্টেরিও হেডফোন এর আবিষ্কারক হতে থাকে।

আপনারা কি জানেন আজকে সময় হেডফোনস কে কানেক্ট করতে যে স্ট্যান্ডার 3.5 মম অডিও জাক ব্যবহার করা হয় তার আবিষ্কার কিভাবে হয় 1964 সালে সনির একটি রেডিও থেকে হয়েছিল যেখানে 3.5 অডিও পোর্ট দেওয়া হয়েছিল। ওইসব হেডফোন খুবই বড় আকারের হত আর তখনি ১৯৭৯তে সনি প্রথম ওয়াকম্যান বাজারে লঞ্চ করে। যার সাথে ছোট হালকা ধরনের হেডফোন দেওয়া হত ওয়াকমান এর বাজারে আসাতে হেডফোনস খুবই হালকা ও পোর্টেবল হয়ে যায়। মজার কথা হল ওয়াকম্যানে দুটো হেডফোন স্পোর্ট থাকতো কিন্তু বক্সের সাথে একটি হেডফোন দেয়া হতো যার ফলে অন্যান্য কোম্পানিদের নিজেদের হেডফোনস কে বিক্রি করার সুযোগ বেড়ে যেত। এরপর বোস কোম্পানি ১৯৮৯ সালে নয়েস ক্যান্সলিং হেডফোনস বাজারে নিয়ে আসে। প্রথম দিকে এটি শুধুমাত্র পাইলট ব্যবহার করত কিন্তু পরে এটি সাধারণ মানুষের পছন্দ করতে থাকে।এরপর সনি ১৯৯৭ সালে নেকবান্ড হেডফোন বাজারে নিয়ে আসে যা সাধারণ মানুষেরা খুবই পছন্দ করে। ২০০১ সালে অ্যাপেল যখন আইপাড লঞ্চ করে তখন তার সাথে পাওয়া এয়ারবাডস হেডফোন ইন্ডাস্ট্রিকে বড় ধাক্কা দেয়। ওই সময় থেকে এখনো পর্যন্ত অ্যাপেল ফার্স্ট জেনারেশন অফ এয়ার পার্সেল ৬০০০ লক্ষেরও বেশি ইউনিট সেল করেছে। আজ হেডফোন এয়ারবাডস এর মডেল দিন প্রতিদিন আরও উন্নত হয়ে চলেছে। কিছু মডেল protability কে মাথায় রেখে বানানো হচ্ছে। আর কিছু মডেল সাউন্ড কে মাথায় রেখে বানানো হচ্ছে। পুরো বিশ্বে একশরও বেশি দামি দামি কোম্পানি রয়েছে যারা হেডফোনস ম্যানুফ্যাকচার করে চলেছে আমাদের আরো ভালো পরিষেবা দেওয়ার জন্য।