মানুষের থেকে মুরগি বেশি ইংল্যান্ডে। আমেজিং ফ্যাক্টস গুলি জানুন। ইংল্যান্ড ও লন্ডনের কিছু অজানা তথ্য।

ইংল্যান্ড এক সময় পৃথিবীর ৮0% দেশের ওপর রাজত্ব করত। এতি এমনএকটি দেশ যা যুক্তরাজ্যের বৃহৎ অংশ হিসেবে পরিচিত । এর উত্তর এ স্কটল্যান্ড, পশ্চিমে ওয়েলস, উত্তর-পশ্চিমে আরব সাগর, দক্ষিণ পশ্চিমে কেলতিক সাগার অবস্থিত । ইংল্যান্ড এমন এক  দেশ যেখানে মানুষের থেকেও মুরগির সংখ্যা অনেক বেশি। ইংল্যান্ডে কোন মানুষ যদি 100 বছরের বেশি বাঁচে  তবে তাকে বিশাল বড় উপলব্ধি মানা হয়। তার ১০০ বছেরর জন্মদিনে এখানের মহারানী স্পেশ্যাল উইশ করেন এবং কার্ড ও পাঠান। ইংল্যান্ডের  প্রায় ৯০% মেয়েরা ২৩ বছর এর আগে  সেলফ ডিপেনডেন্ট হয়ে যায়। এই দেশের মানুশ চা খেতে মাহির। সারাদিনই মানুষজন তিন থেকে চারবার চা পান করে থাকেন। ইংল্যান্ডের মানুষ ফুটবল,টেনিস, ক্রিকেট,বক্সিং,ব্যাটমিন্টন সব ধরনের খেলা ভালবাসেন,তবে ফুটবল খেলাকেই বেশি প্রাধান্য দেয়। ইংল্যান্ডের সরকারি মুদ্রা স্টালিং পাউন্ড বা জিবিপি। দেশটির মোট জিবিপি প্রায় ১.৫৬ দ্রিলিয়ন। ইংল্যান্ডের ISD কোড হচ্ছে +৪৪। জাতিয় দিবস ২৩ শে এপ্রিল, সেন্ট জর্জ এর দিনটি সাধারণত জাতিয় দিবস হিসাবে বিবেচীত।

হ্যাঁ, ইংল্যান্ড এখনও একটি দেশ হিসেবে বিবেচিত, তবে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে নয়। এটি চারটি সাংবিধানিক রাষ্ট্র সম্মিলিত একটি দেশ যেগুলো হলো ইংল্যান্ড , স্কটল্যান্ড, ওয়েলস অ্যান্ড নর্দান আয়ারল্যান্ড। ব্রিটেনে মহারানীর নাম দিয়েই পাসপোর্ট তৈরি হয় যদিও এই মহারানী নিজেই একশরও বেশি দেশ ভ্রমণ করে এসেছেন। আর ওনাকে কোনদিন পাসপোর্ট বানানোর দরকার পড়েনি। ইংল্যান্ড খুব ধনী দেশ যেখানে প্রত্যেক ব্যাক্তির মাসিক বেতন প্রায় 35 হাজার ডলার বা তারও বেশী আর বেকার সমস্যা ও খুব কম।

ইংল্যান্ড সম্পর্কে আরও কিছু জানা-অজানা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য জেনে নেওয়া যাক ইংল্যান্ড একসময় বিশ্বের প্রধান অর্থনৈতিক শক্তি ছিল । ১৮ শতকের শেষ এবং ১৯ শতকের শুরুতে ইংল্যান্ডে প্রথম শিল্প বিপ্লব ঘটে। এর সূত্র ধরে এখানে এমন একটি সমাজ সৃষ্টি হয় যাতে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর প্রাধান্য ছিল বেশি। এটি ছিল বিশ্বের প্রথম নগরায়ীত রাষ্ট্র এখানে আরধেকের ও‌ বেশি মানুশ শহরে বাস করতেন । দ্রুত অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য সুবাদে রানী ভিক্টোরিয়ার ব্রিটেনের বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশে পরিণত হয় । শিল্প বিপ্লবের আগে ও পরে বহুকাল যাবৎ লন্ডন ছিল বিশ্বের পুঁজিবাদের মূলকেন্দ্র। দেশটি ইউরোপের দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ। এক লাখ 30 হাজার 279 বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই দেশ টিতে প্রায় পাঁচ কোটি 56 লাখ মানুষের বসবাস। ইংল্যান্ডের সরকারি ভাষা ইংরেজি এবং এটি তাদের মাতৃভাষা । বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষের মুখের ভাষা। সারা পৃথিবীতে প্রায় একশো কোটিরও বেশি মানুষ ইংরেজিতে কথা বলে থাকেন। দেশটির প্রধান ধর্ম হল খ্রীষ্ট ধর্ম ইংল্যান্ডের প্রায় 60% মানুষ খ্রিস্টান কোন ধর্ম পালন করে। কোনও ধর্ম পালন করেনা এমন মানুষের সংখ্যা 25 শতাংশ। মুসলিম হিন্দু সম্প্রদায়সহ নানা জাতি গোষ্ঠীর মানুষ রয়েছে ।ইংল্যান্ডের রাজধানী এবং সমগ্র পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম শহর লন্ডন টেমস নদীর তীরে অবস্থিত প্রায় 70 লক্ষ লোকের বসতি। 686 খ্রিস্টাব্দে লন্ডনে এক ভয়ানক আগুন লাগে কিন্তু সেই আগুনে প্রায় সারা শহর অর্ধেকেরও বেশি জ্বলে পুড়ে যায় কিন্তু অবাক ব্যাপার এই যে এই আগুনে কেউ মরেনি শুধু ৬ জন আহত হয়। লন্ডন শহরে সবাই খুব খেতে ভালোবাসে আর আপনি জেনে খুব অবাক হবেন এখানে বেশিরভাগই রেস্টুরেন্টের মালিক একজন বাঙালি এখানে বাঙালি রেস্টুরেন্ট এবং বাঙালি খাবার দাবার খুব জনপ্রিয়। এখানের অর্ধেক মানুষ অন্যান্য দেশ থেকে এসেছে প্রত্যেক 4 জন লোকের মধ্যে একজন নিশ্চিত অন্য এক দেশের । ইংল্যান্ডে কোনদিন 39 ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রা বাড়ে নি।লন্ডন সপ্তদশ শতকে ইউরোপে তার প্রথম স্থান বজায় রেখে আসছে ঊনবিংশ শতাব্দীতে এটি ছিল বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শহর কারণ তখন বিশ্বের উল্লেখযোগ্য সকল স্থানে ছিল ব্রিটিশ রাজত্বের লন্ডন ছিল সেই রাজত্বের রাজকীয় অর্থনৈতিক কেন্দ্র বর্তমান পৃথিবীর অন্যতম প্রধান অর্থ বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকে। 

আপনি কী জানেন লন্ডন ইংল্যান্ডের প্রথম রাজধানী নয়। ইংল্যান্ডের প্রথম অফিশিয়াল রাজধানী হচ্ছে উইন চেষ্টার। ইংল্যান্ডের লিডস শহর ইউরোপের অন্যতম বৃষ্টি ভেজা শহর। শহরটিতে প্রতিবছর প্রায় 1024 মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয় এদেশের মানুষেরাও কেন  আবহাওয়া নিয়ে কথা বলতে পছন্দ করে তা এখান থেকেই বোঝা যায়। ইংল্যান্ড একটি দ্বীপ দেশ হতে পারে কিন্তু এটি মূল ইউরোপের একটি আন্ডার ওয়াটার টানেলের মাধমে যুক্ত। আপনি এই টানেল ব্যবহার করে ইংল্যান্ড থেকে অনায়াসে ফ্রান্সএ চলে আসতে পারবেন। ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সএর মধ্যে মাত্র ৫০ কিমি দূরত্ব।  আমরা কমবেশি সবাই WWW এই শব্দের সাথে পরিচিত। আর এর পুরো নাম হচ্ছে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব। এবং এর আবিষ্কর্তা কিন্তু একজন ইংরেজ।১০৬৬ থেকে ১৩৬২ সাল পর্যন্ত প্রায় 300 বছর ধরে ইংল্যান্ডের সরকারি ভাষা ছিল ফ্রেন্চ। ইংল্যান্ডের মানুষের দিক দিয়ে বিশ্বের মধ্যে সেরা স্টিফেন হকিং স্যার, আইজ্যাক নিউটন, চার্লস ডারউইন এরা সব  ইংলিশ বিজ্ঞানী। এছাড়া বিশ্ব বিখ্যাত শেকসপিয়ার এক নামে ছোট থেকে বারো সবাই চিনেন।  আধুনিক যুগের শিল্পকলা ইংল্যান্ড সবসময় গুরুত্ব পেয়েছে ইংল্যান্ডের রচিত নাটক উপন্যাস গল্প এবং বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। ইংল্যান্ডের প্রধান বিমান সংস্থা ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ দেশটির পরিবহন ব্যবস্থা উন্নত মানের সড়ক রেল ও নৌ-পথে নেটওয়ার্ক নিয়ে গঠিত। লন্ডনের হিথ্রো বিমান বন্দর  বিশ্বের বেস্তাতম বিমান বন্দর। শিক্ষাক্ষেত্রে লন্ডনের বিশ্বজুড়ে সুনাম রয়েছে। এখানে রয়েছে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়,  লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়, গ্রিনীচ  বিশ্ববিদ্যালয় লন্ডনের কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদি এ দেশের বিখ্যাত সব স্কুল কলেজের নাম এছাড়াও ইংল্যান্ডে অসংখ্য নামকরা স্কুল কলেজ রয়েছে। ব্রিটিশ মিউজিয়াম লন্ডনে অবস্থিত মানুষের ইতিহাস এবং সংস্কৃতির একটি জাদু ঘর যা বিশ্বের সবচেয়ে বড় জাদুঘর গুলোর মধ্যে অন্যতম । বিশ্বের সব অঞ্চলের মানুষের সংস্কৃতির শুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত প্রায় ১৩ মিলিয়ন নিদর্শন এই জাদুঘরে সংরক্ষিত ।