মেক্সিকোর চুপ চাপের অঞ্চল আর্থাৎ সাইলেন্ট জোন। যেখানে পৃথিবীর সব আধুনিকতা ব্যর্থ!

বারমুন্ডা ট্রায়াঙ্গেল যথেষ্টই রহস্যময়,তা নিয়ে অনেক বৈজ্ঞানিক তথ্য ও গল্পের কোনও শেষ নেই। কিন্তু আপনি জানেন কি মেক্সিকোতে রয়েছে তেমনি এক রহস্যময় অঞ্চল যেখানে রেডিও সংকেত কাজ করা বন্ধ করে দেয়। অদ্ভুত অদ্ভুত ঘটনা ঘটে যায়, যার কোনও ব্যাখ্যা নেই। এখানে এলিয়েন দের নাকি ঘুরতে দেখা যায়। তাঁরা আবার মানুষের সাথে কথাও বলে।

 উত্তর মেক্সিকো তে ৫০ কিলোমিটার  জনশূন্য ক্ষেত্রে জুড়ে বিস্তৃত এই অঞ্চলটি, যা সাইলেন্ট জোন বা নীরব অঞ্চল নামে পরিচিত। মেক্সিকান বৈজ্ঞানিকরা এই অঞ্চল টিকে " থেটিস সাগর" হিসেবে চিহ্নিত করেছেন কারণ লক্ষ লক্ষ বছর আগে এটি সমুদ্র গর্ভের নিচে অবস্থিত ছিল।

১৯৩০ সালে ফ্রান্সিস্কো সারবিয়া নামের এক বিমান চালক " জোন অফ সাইলেন্স " অঞ্চলটি কে আবিষ্কার করেন। তিনি বলেন যখন এই অঞ্চলের ওপর দিয়ে তার বিমান উড়ে যাচ্ছিল তখনি সমস্ত রকম রেডিও সংকেত কাজ করা বন্ধ করে দেয় এবং বিমান টি আর কন্ট্রোল এর মধ্যে ছিলনা । পরে এটি অনুমান করা হয়ে ছিল যে চৌম্বকীয় ক্ষেত্র গুলির কারণেই বেতার তরঙ্গ গুলি কাজ করা বন্ধ করে দেয়। 
এর পর ১৯৭০ সালে যখন  মেকক্সিকার  হোয়াইট স্যান্ড মিসাইল বেস থেকে চালিত একটি ত্রুটি যুক্ত আমেরিকান আথেনা ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সাইলেন্ট জোন ঢুকে পড়ে এবং বিধস্ত হয়ে যায়,তখনি এই রাহস্য মরুভুমির অস্বাভাবিক বৈশিষ্ট সম্পর্কে সমগ্র জগৎ কে সচেতান করে। এরপরেই মার্কিন বিমান বাহিনী তাদন্তাকারিদের দল মেক্সিকান সরকারের আনুমদনে ,ক্রাশ সাইটে যাত্রা করে এবং এই স্থানের অস্বাভাবিক ঘটনা যেমন, টেলিভিশন সহ মাইক্রোওয়েভ বা স্যাটেলাইটে সংকেত গুলো আনুপ্রবেস করতে পারছেনা ,এইগুলো লক্ষ করে এবং তখনি নাম হয় " জোন অফ সাইলেন্স "।

জোন অফ সাইলেন্সে আকর্ষণীয় কাহিনির কোনও শেষ নেই,
অঞ্চলটি একটি চৌম্বকীয় গ্রীড পয়েন্টে অবস্থিত যেখানে পৃথিবীর শক্তি কেন্দ্রিভুত। এই শক্তির কারণেই এউএফও ক্রিয়াকলাপ ও প্রাচীন নভোচারী তত্ত্ব সাথে যুক্ত কিছু এলিয়েন জাহাজের মাধমে এই চৌম্বকীয়স্থানে ফিরে ফিরে আসে। 
গবেষনায় দেখা গেছে ভৌগলিক দিক থেকে মিশরীয় পিরামিড ও বারমুন্ডা ট্রায়াঙ্গেল এবং এই সাইলেন্ট জোন একই অক্ষাংশে আবস্থি। এই অঞ্চল জুড়ে অদ্ভুত আলোক শয্যা, ভাসামান কক্ষ, জ্বলন্ত ঝোপ,এবং এলিয়েন সাথে সাক্ষাৎকারের অনেক গল্পই শোনা যায়। 


মুরুভুমিতে হারিয়ে যাওয়া একজন গবেষক জানিয়েছেন ,ওনাকে এক  স্বর্ণকেশী অদ্ভুত চেহারার লোক তাঁকে নিজের গবেষনা কেন্দ্রে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। এই প্রাণীরা লম্বা রেইনকোট ও বল ক্যাপ পরীহীত ছিল।জোনে প্রচুর এলিয়েন এবং অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তুর প্রচুর গল্প রয়েছে," জেরাল্ডো রিভেরা বলেছেন, চিহুহুয়ার সবচেয়ে অনুগত ইউএফও তদন্তকারী, একজন স্পষ্ট রাষ্ট্রীয় আমলা জেরাল্ডো রিভেরা বলেছেন। লোকেরা প্রায়শই জোনে হারিয়ে যায়। এবং যারা লম্বা, ন্যায্য কেশিক এলিয়েনদের মুখোমুখি হয়েছেন বলে দাবি করেছেন, তারা বলেন, এই এলিয়েন গুলি নিখুঁত স্প্যানিশ ভাষায় কথা বলে, কেবল জল চায় এবং পায়ের ছাপ ছাড়াই অদৃশ্য হয়ে যায়। 

মেক্সিকোর সাইলেন্ট জোনের কতটা সত্য আর কত টা মানুষের কল্পনা তা নিশ্চিত ভাবে বলা সহজ নয়।তবে অনেক প্রমাণ ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা রয়েছে, এখানে ঘটে যাওয়া অবাস্তব সব ঘটনা কে ঘিরেই।