আজকে কি নারীরা সত্যিই এগিয়ে?

আজকের এই মডার্ন যুগে সত্যিই কি নারীরা সুরক্ষিত,

না তারা সেই প্রাচীন যুগের মত পুরুষদের অনেকটা পিছনে আছে। আমরা জানি বিশ্বের যা কিছু তৈরি হয়েছে তার পেছনে অর্ধেক ভূমিকা নারীদেরও আছে।কিন্তু তা কি আমরা সত্যিই মানি। প্রাচীন যুগে আমরা আদি শক্তি মহামায়া দুর্গার কথা পায়। তারপর মেয়েদের উপর অত্যাচারের কথা ও আমাদের মাথায় আসে।

কবি কাজী নজরুল ইসলামের ভাষ্যমতে যেহেতু মানব সভ্যতা বিকাশে নারী-পুরুষের অবদান সমান। তাহলে উভয়ের অধিকার ও সমান। কিন্তু বর্তমান সমাজে নারী অধিকার নিয়ে আমরা কতটা সচেতন? নারীরা এখনো পায়নি তাদের ন্যায্য অধিকার। নারী অধিকার সম্পর্কে কথা উঠলে এখনো অনেকেই জবাব দেয়, নারী আর পুরুষের অধিকার সমান হলে নারীরা কেন পুরুষের মতো ক্ষেত-খামারে কাজ করে না। এমন অনেক যুক্তি দিয়ে থাকেন তারা। আসলে এসব মানুষ জানেও না যে, অধিকার মানে কী! নারী-পুরুষ সমান অধিকার বলতে বোঝায়, যেখানে একই কাজের জন্য উভয়কে সমান পারিশ্রমিক দেওয়া, উভয়ের মত প্রকাশের অধিকার থাকা, উভয়ের সমান শিক্ষাগ্রহণের অধিকার ইত্যাদি।

বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার সময় শত বাধার সম্মুখীন হতে হয় মেয়েদের। কখনো রাস্তার বখাটে ছেলেদের ধর্ষণের শিকার হয়ে অনেককে প্রাণও হারাতে হয়। এ যেন অধিকার বঞ্চিত হওয়ার তুমুল খেলা। গ্রামের একটি মেয়ে ভালো কাজ করলেও যেন সমাজে অনেকের কাছে দুর্নামের পাত্রী হয়ে উঠতে হয়। তাছাড়া সমাজের কাছে একটি মেয়ে যেন পরিবারের বোঝা হিসাবে গণ্য। তাই বোঝামুক্ত হওয়ার জন্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিয়ের পিঁড়িতে বসানো হয় সবে কিশোরী ধাপে পা দেওয়া একটি মেয়েকে। যে ছোটবেলা থেকে বড় হতে থাকে কিছু স্বপ্ন নিয়ে, বাল্যবিবাহের কারণে ধুলায় মিশে যায় তার সব সুন্দর স্বপ্ন-আকাঙ্ক্ষাগুলো। তাও আমরা মুখে বলি নারী পুরুষ সমান সমান আসলে মুখে নয় সেটা সবাইকে নিজের মনে রাখতে হবে নিজের মাথায় ঢুকাতে হবে।