ক্ষীরাই যা এখন ফুলের উপত্যকা । শীত শেষের আগেই ঘুরে আসুন সেই স্বর্গীয় জায়গায়

ni

নভেম্বরের শেষের দিক থেকেই এখানে স্বর্গীয় সৌন্দর্যমন্ডিত জায়গা চাক্ষুষ করে যায়। ট্রেন লাইনের ধার পাশে নদীর পার সাথে মাইলের পর মাইল জুড়ে ফুলের বাগান সব মিলিয়ে অপূর্ব দৃশ্য । সারাদিন রেল গাড়ি দেখতে দেখতে আর নদীর শান্ত শীতল বাতাস খেতে খেতে ফুলের বাগানে সারাদিন বেশ ভালই কাটবে। এছাড়াও এখন ট্রেন লাইনের নিচে একটা ছোট্ট হাট ও বসে যেখানে জল, বিভিন্ন খাবার দাবার এর ও ব্যবস্থাপনা রয়েছে। এখানে অনেক চারা গাছ ও বিক্রি হয় যা   নিজের বাগানে লাগাতে পারবেন। আগে জায়গাটি খুব পরিচিত না হলেও এখন বেশ জনপ্রিয় আর পর্যটকদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। 

 ক্ষীরাই নদীর ডান ও বাঁ দিকে মাইলের পর মাইল ক্ষেত জুড়ে বসানো হয় চারাগাছ, যা ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধ পর্যন্ত নানা রঙের গালিচায় ভরে ওঠে। কী নেই সেখানে? গাঁদা, গোলাপ, আষ্টার, চন্দ্রমল্লিকা, মোরগঝুঁটি এবং আরও কত নাম না জানা ফুল। মাঠের পরে মাঠ ফুলের গালিচায় ঢাকা। ফুল তো অবশ্যই প্রধান আকর্ষণ, তাছাড়াও আছে নানা পাখি প্রজাপতি ফড়িং আর পোকামাকড়। সবটা মিলিয়ে বলা যেতে পারে এই সময় প্রকৃতি তার রূপ-রস-গন্ধে ভরিয়ে রাখে ক্ষীরাই উপত্যকাকে।  চাষি ভাইয়েরা সুলভ মূল্যে বিক্রি করছেন ফুল আর সমস্ত পর্যটক রাই কিনছে সেই ফুল! 

 স্টেশন থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে নদীর দিকে হেঁটে চলছেন অসংখ্য মানুষ যারা দূর দুরান্ত আসছেন সেই সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য।  ক্ষীরাই আসলে একটি নদীর নাম আর সেই নদীর নামেই গ্রামের নামকরণ হয়েছে এই জায়গার । এটা যেন এক রূপকথার দেশ ,আঁকা ছবির মতন রঙিন ও সুন্দর। তবে এখানে হয়তো পাবেন না তুষারাবৃত পাহাড়ি সুবাস। তবে পাবেন বাংলার নির্ভেজাল স্বাদ ও নদী-ঘর-মাঠ-মানুষ নিয়ে ভরা প্রকৃত 'বাংলার মুখ'। এ সব কিছুর মাঝে আপনাকে যা টানবে, তা হল হাজারো ফুলের প্রাণ খোলা দোলা। দেখে মনে হবে যেন, নানা রঙে ঢেউ বইছে বিঘার পর বিঘা জুড়ে!  সিনেমা তে দেখা নায়ক নায়িকা যে অফুরন্ত ফুলের বাগানে ছুটে বেড়ায় ঠিক সেইরকম অনুভব করতে পারবেন। 

 

কি ভাবে যাবেন?

হাওড়া মেদিনীপুর লোকাল ধরে পাঁশকুড়ার  পরের স্টেশন এ নেবে তিন no. প্ল্যাটফর্ম থেকে পাঁশকুড়ার দিকে 15 মিনিট হেঁটে গেলেই দেখতে পাবেন সেই স্বর্গীয় জায়গা ক্ষীরাই । অথবা পাশকুরা তে নেবে  টোটো নিয়ে যাওয়া যায়। আপনি চাইলে পার্সোনাল গাড়ি করেও যেতে পারেন।