প্রাকৃতিক ভাবে খুশকি নিরাময়ের ঘরোয়া টোটকা। মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ফলাফল পাবেন।

খুশকি জনসমক্ষে আপনার আত্ম-সম্মান কমিয়ে দিতে পারে এবং আপনার আশেপাশের অনেক লোকের আপনার প্রতি মনোভাবের পরিবর্তন ঘটাতে পারে। এটি বন্ধ করার জন্য, আপনি নীচের তালিকাভুক্ত সমস্ত ঘরোয়া পদ্ধতি ব্যবহার করুন, অবশ্যই কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ফলাফল পাবেন। কিন্তু আপনি যদি অতিরিক্ত ভাবে খুশকিতে ভুগছেন তবে  যে কোনও ডাক্তারের সাথে পরামর্শ নিতে পারেন।
শীতকাল ও বসন্তকালেই বেশীর ভাগ লোকের মাথায় এই খুস্কি হতে দেখা যায়। আপনার মাথার ত্বকে ম্যালাসেজিয়া নামে এক ধরণের ছত্রাকের বৃদ্ধি শুরু হলে খুশকি হয়।এর ফলে মাথার ত্বকের ক্ষতি হয় এবং মারাত্মক শুষ্কতা দেখা দেয়। এখানে খুশকির কয়েকটি বড় কারণ রয়েছে.....

১.অনিয়মিত ভাবে  মাথায় চিরুনি এবং আনিয়ামিত চুল ধোয়ার কারণে অনেকের মাথায় খুশকি দেখা দেয়।

২.নিয়ামিত ভাবে  শ্যাম্পু ব্যবহার করা না করা এবং দীর্ঘদিন চুলে তেল না দিয়ে চুল কে রুক্ষ রাখা।

৩.মাত্রারিক্ত চিন্তা এবং যে কোনও ধরণের মানসিক অসুস্থতার কারণেও খুশকি জন্ম নেয়।

খুশকির কেন হয় আমরা  প্রাথমিক প্রাথমিক ভাবে কারণগুলি জানলাম, এবার আসুন আমরা কোনোরকম ডাক্তারী চিকিত্সা ছাড়াই কীভাবে এর থেকে মুক্তি পাব তার কিছু সহজ ঘরোয়া প্রতিকারের উপায় জেনে নেই।

খুশকি নিরাময়ের ঘরোয়া প্রতিকার:
১.চুলে মেহেন্দি লাগান:
আপনি মেহেদী ব্যবহার করে খুশকি নিরাময় করতে পারেন। মেহেন্দি আপনার চুলের উপর ভাল কাজ করে এবং এটি চুলকে নরম করে। সপ্তাহে ১ থেকে ২ দিন চুলে মেহেন্দি লাগান সাথে একটু লেবুর রস ও দই মিশিয়ে। তারপর ১ ঘন্টা পর ধুয়ে ফেলুন।

২.নারকেল তেলের প্রয়োগ:
আপনার চুলকে পুষ্ট রাখার জন্য তেলের গুরুত্ব অপরীসীম । নারকেল তেলের সঙ্গে সামান্য লেবুর রস মিশ্রিত করে চুলের গোড়ায়  ম্যাসাজ করূনএটি খুশকি নিরাময় করতে সাহায্য করে।
৩.ভিনেগার:
ভিনেগার চুলকানি, শুষ্ক ত্বকের চিকিত্সা করতে সহায়তা করে এবং খুশকি সৃষ্টিকারী ছত্রাক এবং ব্যাকটেরিয়াগুলিকে মেরে ফেলতে সহায়তা করে। ভিনেগারের অ্যাসিডযুক্ত উপাদানগুলি ফ্ল্যাঙ্কিং মারাত্মকভাবে হ্রাস করতে সাহায্য করে। স্নান করার আগে চুলের গোড়ায় দিএয় আধ ঘণ্টা পরে ধুয়ে ফেলুন।

৪.নীম পাতার নীরযাস : অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিফাঙ্গাল গুণাবলীর কারণে নিমের নির্যাস প্রায় সমস্ত ত্বকের ক্ষেত্রে উপকারী ভূমিকা নিয়ে থাকে সে সম্পর্কে আমরা সবাই সচেতন । নীম পাতাকে জলে ফুটিয়ে ঠান্ডা করে সেই জলে মাথা ধুয়ে ফেলুন।
৫.অ্যালভেরা:
অ্যালোভেরা কেবল শীতলই নয়, ত্বককে হালকাভাবে এক্সফোলিয়েট করে এবং এন্টি-ফাঙ্গাল এবং অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্যও রয়েছে এর মধ্যে। এটি সরাসরি মাথার ত্বকে প্রয়োগ করুনএবং তারপরে অ্যান্টি-ডানড্রফ বা হালকা শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। 
৬. বেকিং সোডা:
বেকিং সোডা হ'ল আর একটি উপাদান যা আমাদের রান্নাঘরে পাওয়া যায়। এটি মৃত ত্বকের কোষগুলি অপসারণ এবং মাথার ত্বকে স্কেলিং এবং চুলকানি কমাতে খুব কার্য কর। খুশকি দূর করতে বেকিং সোডা ব্যবহার করার জন্য, ভেজানো চুলের সাথে সরাসরি বেকিং সোডা প্রয়োগ এবং এটি আপনার মাথার ত্বকে ম্যাসেজ করার চেষ্টা করুন। এটি এক বা দুই মিনিটের জন্য বসতে দিন, তারপরে যথারীতি  শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন।

এই সাধারণ টিপসগুলি অনুসরণ করুন এবং স্থায়ীভাবে খুশকি থেকে মুক্তি পান।
সমস্ত ঘরোয়া পদ্ধতী সবার জন্য কার্যকর হবে না। প্রাকৃতিক প্রতিকারের চেষ্টা করার আগে বা পরে ডাক্তারের সাথে কথা বলে নিতে পারেন।