বাংলার ছেলে অরিজিৎ সিং। মুর্শিদাবাদ থেকে বলিউডের সুপার স্টার হয়ে ওঠার গল্পঃ।

 আট থেকে আশি, ছোট থেকে - বৃ্দ্ধ-বনিতা সবাই এক নামে চেনে অরিজিৎ সিং কে। যার গানে মাতহারা পুরো বিশ্ব, সুর কন্ঠ তাল সব মিলিয়ে একশ তে একশ। বাঙালির হোলি উত্সব থেকে শুরু করে প্রেম বিচ্ছেদ সবে তেই থাকে অরিজিৎ এর গান। বাঙালা থেকে হিন্দি সব প্লে লিস্ট এই ওনার অগ্রাধিকার। ফেমাস গান " তুম হি হো "  থেকে  "বোঝে না সে বোঝে না " মন খুশ করার জন্য যথেষ্ট। গ্রামের ছেলে থেকে বলিউডের সুপারস্টার! যার গানে মুগ্ধ পুরো বিশ্ব!   

এমন খুব কম গায়কি আছে যার গান আমাদের ইমোশনের সাথে জড়িয়ে , যার গান আমাদের মুখে হাসি আর চোখে জল এনে দিতে পারে ।আর তাঁদের মধ্যে অরিজিৎ হলেন একজন।

"1987 সালের 25 এপ্রিল মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে" জন্মগ্রহণ করেন আরজিৎ সিং। তার মা হলেন একজন বাঙালি এবং বাবা হলেন একজন পাঞ্জাবি। পড়াশোনায় তিনি সব দিনই মাঝারি মানের ছাত্র ছিলেন, মিউজিকের প্রতি তার বেশি ঝোঁক দেখায় তার বাবা-মা ও মিউজিক টাকেই তার ক্যারিয়ার হিসেবে বেশি গুরুত্ব দিতে শুরু করেন। কিভাবে বছরের পর বছর স্ট্রাগেল করে ফাইনালি অরিজিত এত সুনাম এত খ্যাতি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন তা সত্যিই অনুপ্রেরণা জোগানোর মতো।

 মুম্বইয়ের রিয়েলিটি শো তে যোগদানের পরে সেখানে পরিচয় হয় এক সহপ্রতিযোগিনি ও গায়িকা রূপরেখা ব্যানার্জি এর সাথে। এবং বিয়ে করেন তাঁকে। কিন্তু সেই বিয়ে টৈকেনি। প্রথম বিয়ে বিচ্ছেদ এর পর 2012 সালে তিনি তার ছোট্ট বেলার বান্ধবী কোয়েল রায় কে বিয়ে করেন। কোয়েল রায় ও প্রথম বিয়ে থেকে বেরিয়ে আসেন আর সাথে ছিল তার পুত্র। বর্তমানে অরিজিৎ এর দুই সন্তান। সাধারণত মিডিয়া থেকে দূরত্ব বজায় রাখেন অরিজিৎ তবে কনসার্ট গুলিতে ভক্ত দের সাথে মেতে ওঠেন তিনি। 2018 সাল পর্যন্ত ভারতের গায়ক দের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কনসার্ট করেছেন এবং প্রতি বছর দুর্গা পুজো তে তিনি বাড়ি ফেরেন মানে বাংলায় ফিরে আসেন। 

2011 সালে "মার্ডার টু" সিনেমার "ফির মহাব্বত" গানটি গেয়ে বলিউডে অরিজিতের পথ চলা শুরু হয়। এরপর থেকেই অরিজিতকে কখনোই পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। অরিজিতের সবথেকে প্রিয় গান হল তার নিজের গাওয়া "ফির লে আয়া দিল"।

অরিজিৎ সিং এর জীবন কাহিনী আমাদের এটাই শেখায় যে মনেপ্রাণে একটি কাজকে ভালবাসলে এবং শত হাজার বার ব্যর্থ হওয়ার পরও একনিষ্ঠ ভাবে চেষ্টা চালিয়ে গেলে আজ নয়তো কাল সেই কাজে সফলতা আসতে বাধ্য।