পৃথিবীর ৫ টি কুখ্যাত আত্মহত্যার স্থান যেমন ভয়ংকর তেমন রোমাঞ্চকরও। সুইসাইড স্পট হিসেবে পরিচিত ‌এই সব অনিন্দ্য সুন্দর স্থান গুলি....

ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের মতে, প্রতিবছর এক মিলিয়নেরও বেশি মানুষ  আত্মহত্যা করেন। অদ্ভুতভাবে, আত্ম-ধ্বংসের এই বেপরোয়া কাজগুলি প্রায়ই বিশ্বের বেশিরভাগ সুন্দর স্থানগুলিতে সংঘটিত হয়। নিচের তালিকাভুক্ত অনিন্দ্যসুন্দর জায়গা গুলোকে মানুষ দীর্ঘ সময় ধরেই আত্মা ধ্বংসের জায়গা হিসেব বেছে নিয়েছেন।

কেন এই তথাকথিত জনপ্রিয় রোমাঞ্চকর স্থানগুলোতে আত্মহত্যা? কেন এসব স্থানগুলো আত্মহত্যা চেষ্টাকারী লোকদের আকৃষ্ট করে? এসব প্রশ্ন কিছুটা বিতর্কের বিষয়। সাধারণত এ আত্মহত্যাগুলোকে ভিন্ন ধরনের আত্মহত্যার প্রবণতা বলে মনে করা হয়। আত্মহত্যা কখনও কখনও একটি চূড়ান্ত বিবৃতি হিসাবে দেখা যায় এবং আরেকটি অন্যতম কারণ হতে পারে সাধারণ মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ। অনেক মানুষ ভয়ংকর যায়গায় যেমন রোমাঞ্চকর অনুভূতি পায়, তেমনি আরেকদল মানুষ  এই স্থান গুলোকে মৃত্যুর উপযুক্ত স্থান হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

জেনে রাখুন, আমরা আপনাকে কেবলমাত্র একটি সামান্য তথ্য দিচ্ছি এবং কোনওভাবেই এই পোস্ট আপনাকে আত্মহত্যার জন্য উৎসাহিত করে না এবং আপনাকে কোনও সন্দেহজনক উদ্দেশ্য নিয়ে এই স্থানগুলি দেখার জন্য উত্সাহিত করবে না। আপনার জীবন আমাদের ও আপনার পরিবারের জন্য খুব মূল্যবান। তাই সুস্থ থাকুন ভাল থাকুন।

চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই কুখ্যাত আত্মঘাতী স্থান যেগুলি ওয়ার্ল্ড মোস্ট সুসাইড স্পট হিসেবে উঠে এসেছে.......

১.আকিগাহারা বন :

মাউন্ট ফুজি পশ্চিমাঞ্চল প্রায় 35 বর্গ কিলোমিটার ঘন বন নিয়ে অবস্থিত যাকে গাছের সমুদ্র বলা হয় সেই অঞ্চলটি হল অকিগাহারা বন। যেখানে মানুষ গেলে আর ফেরেনা। জাপানে আত্মহত্যা একটি প্রধান সামাজিক সমস্যা। আর এই এলাকাটিতে মৃত্যুর সংখ্যা এতই বেশি যে স্থানীয় পুলিশ বনটিকে একরকম ঘেরাও করে রাখেন, যাতে তারা আত্মহত্যার চিন্তা ভাবনা করা মানুষজনকে পুনর্বিবেচনার পর উদ্ধারকর্মীর সাথে যোগাযোগ করিয়ে দিয়ে তাঁদের মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করতে পারেন।

২০০৩ সাল নাগাদ এ সুইসাইড ফরেস্টে আত্মহত্যার হার শতকরা ১০০ পর্যন্ত পৌঁছায় বলে মনে করা হয়। এবং ২০১০ সালে, জাপান টাইমস অনুযায়ী, ২৪৭ জন মানুষ (সফল হয়েছিলো ৫৪ জন) আত্মহত্যার চেষ্টা করে। এখানে যতটা না মানুষ পথ হারিয়ে মারা যায়, তারচেয়ে বেশি মানুষ এই মাউন্ট ফুজিতে সুইসাইড করতে যায়।

সাম্প্রতিক দশকগুলিতে অকিগাহারা বিশ্বের অন্যতম ব্যবহৃত আত্মঘাতী জায়গা "সুইসাইড ফরেস্ট" হিসাবে পরিচিতি পেয়েছে। বনের কয়েকটি পথের মাইল ফলক গুলিতে জীবন শেষ করার আগে আত্মঘাতী মানুষদের তাদের পরিবার সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করার এবং একটি আত্মহত্যা প্রতিরোধ সংস্থার সাথে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানানো রয়েছে।

যদিও জাপানের বছরের শেষে মানে প্রত্যেক মার্চ মাসে প্রতি বছরের চেয়ে আত্মঘাতি মানুষের সংখ্যা বেড়েই চলে। আর অনেকেই মনে করেন এই আকিগাহার বনের জনপ্রিয়তা বাড়ার জন্য ১৯৬১ সালে প্রকাশিত একটি উপন্যাস " Tower of Waves" ই দায়ী। 

 

 

২.মাউন্ট মিহারা আগ্নেয়গিরি :

মাউন্ট মিহারা টোকিওর প্রায় ১০০ কিলোমিটার (৬০ মাইল) দক্ষিণে একটি ছোট দ্বীপ আইজু অশিমার উপর অবস্থিত একটি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি। মাউন্ট মিহারা নিয়ে একসময় প্রচুর কল্পকাহিনী প্রচলিত ছিল। হঠাৎ করে এই “আত্মঘাতী দ্বীপ” আইজু হতাশ প্রেমিকদের জন্য পছন্দসই চূড়ান্ত গন্তব্য হয়ে ওঠে। জখন ২১ বছর বয়সী শিক্ষার্থী কিওকো মাৎসুমানো প্রেমে ব্যর্থ হয়ে প্রথম এখানে আত্মহত্যা করে, তার আত্মহত্যা মাউন্ট মিহারার জন্য কালক্রমে একটি মহামারী হয়ে গিয়েছিল। আর তখন থেকেই মাউন্ট মিহারা জনপ্রিয় সুইসাইড স্পট হয়ে উঠেছে

১৯৩৬ থেকে ১৯৩৭ সালের একটি প্রতিবেদন অনুসারে এখানে প্রায় ২০০০ জন আত্মঘাতী হয়েছেন।

অবশেষে, কর্তৃপক্ষ আগ্নেয়গিরির গর্তের চারপাশে একটি উচ্চ বেড়া স্থাপন করেছিল এবং প্রহরীরা এটি টহল দিয়েছিল। এই আগ্নেয়গিরির আত্মহত্যার সংখ্যা তীব্র হ্রাস পেয়েছে।

৩.সান ফ্রান্সিসকোর গোল্ডেন গেট সেতু :

সান ফ্রান্সিসকো এর গোল্ডেন গেট সেতুকে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় আত্মহত্যার স্থান হিসাবে ধরা হয়। কিছু উৎস অনুযায়ী, গড়ে প্রতি দুই সপ্তাহে এখানে একজন আত্মহত্যা করে। সবচেয়ে খারাপ বছর ছিল ১৯৯৫, যখন ৪৫ জন আত্মঘাতী হয়ে ছিল। তবুও বিপুল সংখ্যক লোক শেষ মুহূর্তে ঝাঁপ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ২০০৬ সালে, ২২০ ফুট (৬৭ মিটার) লিপ তৈরি করার আগে ৭০ জন আত্মঘাতী মানুষকে সেতুটি থেকে উদ্ধার করে নেওয়া হয়েছিল।

১৯৩৭ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত আনুমানিক ১৪০০ মৃত দেহ উদ্ধার হয় এই গোল্ডেন ব্রিজ থেকে।

৪.নায়াগ্রা জলপ্রপাত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যসীমান্তে বিশ্ব বিখ্যাত নায়াগ্রা জলপ্রপাত শুধুমাত্র একটি বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্রই নয়, এটি একটি কুখ্যাত সুইসাইড স্পটও। ১৬৫ ফুট উপর থেকে জলপ্রপাতে পড়লে বেঁচে ফেরার আংশিক সম্ভাবনাও থাকেনা।

প্রতিবছর প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন মানুষ নিখুঁত জলের মধ্যে আত্মহত্যা করছে। ১৮৫৬ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত, নায়াগ্রা জলপ্রপাতে ২,৭৮০ জন আত্মহত্যা করে। কেবলমাত্র তিনজন মানুষ নিরাপত্তামূলক ডিভাইসের সাহায্যে মৃত্যু কুপ থেকে বেঁচে যায়।

৫.ইস্ট সাসেক্স

ইস্ট সাসেক্সের অনিন্দ্য সুন্দর বিচ হেড ডোভারের বিখ্যাত হোয়াইট ক্লিফের কথা স্মরণ করে। ভূমি এবং সমুদ্রের উভয় দিকের একটি উল্লেখযোগ্য ল্যান্ডমার্ক এই নিচু খাঁজকাটা খাড়া সমুদ্রের উপরে ৫০০ ফুট এবং নীচের পাথরের উপরে উঠেছে।

সম্ভবত এটির মারাত্মক সৌন্দর্যের জন্যই এটি বিশ্বের সবচেয়ে কুখ্যাত আত্মঘাতী স্থানগুলির একটি হয়ে উঠেছে। প্রায় ২০ জন মানুষ প্রতি বছর বিচ হেড থেকে জাম্পিংয়ের মাধ্যমে আত্মহত্যা করে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে, আত্মহত্যাকে নিরুৎসাহিত করতে বড় ধরনের প্রচেষ্টা নেয়া হয়েছে। সামারিটানস (একটি ইউকে দাতব্য প্রতিষ্ঠান) সাইট আত্মহত্যায় ইচ্ছুক ব্যক্তিদের তাদের কল করার অনুরোধ জানিয়ে সেখানে একটি ফোন বুথের ব্যবস্থা করেছেন। ২০১১ সালে রেস্কিউ টিম ২৬৬ সম্ভাব্য জাম্পারকে জাম্পিং থেকে বিরত করতে পেরেছে।

বি দ্র : জেনে রাখুন, আমরা আপনাকে কেবলমাত্র একটি সামান্য তথ্য দিচ্ছি এবং কোনওভাবেই এই পোস্ট আপনাকে আত্মহত্যার জন্য উৎসাহিত করে না এবং আপনাকে কোনও সন্দেহজনক উদ্দেশ্য নিয়ে এই স্থানগুলি দেখার জন্য উত্সাহিত করবে না। আপনার জীবন আমাদের ও আপনার পরিবারের জন্য খুব মূল্যবান। তাই সুস্থ থাকুন ভাল থাকুন।