নান মাদল দ্বীপ যেখানে এক রাত্রি থাকলেই মৃত্যু!!

Nan Madol 1

সমুদ্রের মাঝে নির্জন প্রাচীন এক দ্বীপ যার নাম "নান মাদল" ( Nan Madol )। প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে মাইক্রোনেশিয়ার পনফেই  দ্বীপের পাশেই ছোট এই দ্বীপ। দ্বীপটির মাঝেই গড়ে উঠেছে এক প্রাচিন শহর । আর এই শহর কেই মাঝে মধ্যে অষ্টম আশ্চর্যের তকমাও দেওয়া হয়ে থাকে তবে এই সুন্দর দ্বীপটিতে কেউ কখনো রাত কাটানোর কথা ভেবে উঠতে পারেনি। কারণ এই দ্বীপকে ভুতুড়ে দ্বীপ বলে স্থানীয়রা‌। মাঝ সমুদ্রের মাঝে সবুজ এই অঞ্চল দেখলে গা ছমছম করে।

অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্য অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, দুপুরের মধ্যে ফিরে আসতে হবে নান মাদোল ছেড়ে। পনফেইয়ের মানুষ বলেন, অনেকেই রাতের "নান মাদোলকে" দেখতে গিয়েছিলেন। কেউ আর ফিরে আসেনি। কিন্তু কেন? সে প্রশ্নের কোনও জবাব নেই তাঁদের কাছে।

Nan Madol megalithic site, Pohnpei (Federated States of Micronesia) 5

দ্বীপটিকে কে ঘিরে নানা জনের নানা মত রয়েছে শোনা যায় এখানে একরাত থাকলেই মৃত্যু ঘনিয়ে আসবে। আর রাত হলেই চেহারাই পাল্টে যায় এই প্রাচীন দ্বীপটির। এটি এতই প্রত্যন্ত জায়গায় অবস্থিত যে যে কারো পক্ষেই ওই জায়গায় পৌঁছানো অসম্ভব ছিল।

আশেপাশের বাসিন্দারা ওই দ্বীপ এর ধারে পাশে যেতে চান না তাদের দাবি ওই দিতে ভূত আছে কিন্তু অনেক পর্যটকই ওই স্থান ঘুরে আসেন তবে শুধুমাত্র দিনের আলোতেই কেউ কোনদিন রাত্রে থাকার কথা কল্পনাও করেননি কারণ রাতের অন্ধকারে আলোকোজ্জ্বল অনেক অস্বাভাবিক বস্তু ঘোরাফেরা করতে দেখেছেন তারা। তাইতো প্রাচীন সভ্যতা আর অনেক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নিয়ে তাকায় দাঁড়িয়ে রয়েছে দ্বীপটি।

Nan Madol megalithic site, Pohnpei (Federated States of Micronesia)

তবে গবেষকরা ওই জায়গায় গিয়ে দেখেছেন সেখানে ৯৭ টা আলাদা আলাদা আর এই ব্লগ গুলো কে ঘিরে রেখেছে জলাশয় যা একে অপরের থেকে তাদেরকে আলাদা করে রেখেছে কিন্তু কী কারণে এ ধরনের ব্লগ তা স্পষ্ট নয়।

কেন কেউ একজন এই মাঝ সমুদ্রের বুকে দ্বীপ তৈরি করলেন তাও অজানা। আর এখানে তেমন কোন সভ্যতার চিহ্ন নেই। রহস্যময় দ্বীপ অস্ট্রেলিয়া থেকে 16 মাইল দূরে এবং লস এঞ্জেল থেকে প্রায় 25 মাইল দূরে অবস্থিত স্যাটেলাইট ইমেজ এ ঘন জঙ্গল ছাড়া আর তেমন কিছুই চোখে পড়ে না। দীপ্তিতে গেলে দেখা যায় তার দেওয়ালগুলো প্রায় 25 ফুট লম্বা আর 16 ফুট চওড়া।

কীভাবে এই ব্লকগুলি তৈরি হল তা নিয়েও কিন্তু প্রশ্নের অবকাশ রয়েছে। কারণ, খুব অদ্ভূতভাবে প্রত্যেকটি ব্লক একইরকম জ্যামিতিক আকারের। মনে হবে পরিকল্পনা করে তৈরি করা। শোনা যায়, এখানে একসময় শহর ছিল। কিন্তু এমন মাঝ মহাসাগরে কেউ কেন শহর তৈরি করবেন সে রহস্য আজও রহস্যই রয়ে গিয়েছে।

বিজ্ঞানী দের মনে আরও একটি প্রশ্ন রয়েছে এই ঐতিহাসিক দ্বীপনগর নিয়ে। মূল ভূখণ্ড থেকে এত দূরে কেনই বা এত কষ্ট করে এমন একটা নগরের পত্তন করতে গেলেন কেউ?