রশ্মিকা মন্দানা যিনি কর্নাটকা ক্রাশ নামেও পরিচিত। এক্সপ্রেশন কুইন রশ্মিকার নামের সাথে না হলেও সুন্দরী অভিনেত্রীর ছবির সাথে সবাই পরিচিত।

রশ্মিকা মন্দানা
নামের সাথে সবাই খুব একটা পরিচিত না হলেও সুন্দরী এই নায়িকার ছবির সাথে আমরা প্রায় সকলেই পরিচিত। ছবি দেখলেই চোখ ফিরিয়ে নেওয়া যায়না এই মায়াবী নায়িকার দিক থেকে যিনি নিজের কাজের ও এক্সপ্রেশন এর মধ্যে দিয়ে খুব অল্প সময়েই সবার মন জয় করে ফেলেছেন৷ নিজের মুভি ছাড়াও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছোট ছোট এক্সপ্রেশন ভিডিও এর মাধ্যমে দর্শকদের মন কেড়ে নিয়েছেন রস্মিকা। তাই অনেকে রশ্মিকা কে " এক্সপ্রেশন কুইন" ও বলে থাকেন। জেনে নেওয়া যাক রশ্মিকার ব্যক্তিগত এবং কর্মজীবন সম্পর্কে........

ভারতীয় চলচ্চিত্র অভিনেত্রী এবং মডেল, যিনি মূলত তেলুগু এবং কন্নড় চলচ্চিত্রে অভিনয় করে থাকেন। গণমাধ্যম এবং কন্নড় চলচ্চিত্র শিল্পে তিনি 'কর্ণাটক ক্রাশ' নামে পরিচিত। তবে এখন রস্মিকা  "ন্যাশনাল ক্রাশ " নামেও অভিহিত হচ্ছেন।

রশ্মিকা মন্দানা ১৯৯৬ সালের ৫ এপ্রিল  কর্ণাটকের কোড়গু জেলার একটি শহর বিরাজপেটে জন্মগ্রহণ করেন। ২০২১ সাল অনুযায়ী রাস্মিকার বয়স ২৫ বছর। তিনি এখনো অবিবাহিত। তার বাবার নাম মদন মান্দানা। মায়ের নাম সুমন মান্দানা এবং তাঁর ছোট বোনের নাম সিমন মান্দানা।

তিনি বেঙ্গালুরুর এম.এস.রামিয়া কলেজ অফ আর্টস, সায়েন্স এবং কমার্স থেকে সাইকোলজি, জার্নালিজম এবং ইংরেজি সাহিত্য এই তিনটি বিষয়ে  গ্রাডুয়েশন কমপ্লিট করেছেন ।

রাশ্মিকা প্রতিটি মুভির জন্য ৫০ থেকে ৬০ লাখ পর্যন্ত চার্জ করেন। আর প্রতিটি বিজ্ঞাপন এর জন্য ২০ থেকে ২৫ লাখ নেন।

রশ্মিকা ২০১২ সালে মডেলিং শুরু করেছিলেন। একই বছর তিনি ক্লিন অ্যান্ড ক্লিয়ার ফ্রেশ ফেস অব ইন্ডিয়া খেতাব অর্জন করেছিলেন এবং ক্লিন অ্যান্ড ক্লিয়ার এর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে যুক্ত হয়েছিলেন। তারপরে লামোডে বেঙ্গালুরুর টপ মডেল হান্টে ২০১৩-তে তিনি টিভিসির খেতাব অর্জন করেছিলেন। প্রতিযোগিতায় তার চিত্রগুলি "কিরিক পার্টি"-এর নির্মাতাদের মুগ্ধ করেছিল, ফলস্বরূপ ২০১৬ সালের প্রথম দিকে চলচ্চিত্রটিতে রশ্মিকা অভিনেত্রীর ভূমিকায় আত্মপ্রকাশ করেছিলেন। যদিও এই মুভি টি সুপার ফ্লপ হয়৷ কিন্তু নায়িকা মুভি টিতে এক্টিং এর মাধ্যমে দর্শকদের মন জয় করতে শুরু করে।

২০১৭ সালে তিনি "চমক" এবং "আঞ্জানী পুত্রা" নামক দুটি  চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন। এবং এই দুটি মুভি হিট হয়৷ পরে তিনি ২০১৮ সালের প্রণয়ধর্মী চলচ্চিত্র "চালো" দিয়ে তেলুগু চলচ্চিত্রে পা রাখেন। এবং একই বছর তিনি "গীতা গোবিন্দম"-এ অভিনয় করেছিলেন, যা তেলুগু
চলচ্চিত্রে সর্বাধিক মুনাফা অর্জনকারীদের তালিকায় স্থান করে নেয় এবং তিনি ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করতে সক্ষম হন। তার তৃতীয় তেলুগু প্রকল্পটি ছিল "দেবদাস "নামে একটি তারকাবহুল বড় বাজেটের চলচ্চিত্র। কন্নড় চলচ্চিত্র শিল্পে প্রথম হ্যাট্রিক-হিট করার পরে তেলুগু চলচ্চিত্র শিল্পেও একই বছরে পরপর তৃতীয় সফল চলচ্চিত্র হিসাবে এটি চিহ্নিত হয় এবং তেলুগু ও কন্নড় চলচ্চিত্রে মুখ্য অভিনেত্রী হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।

রশ্মিকা অভিনেতা রক্ষিত শেঠির সাথে রিলেশনশিপ এ আসেন।  এবং ২০১৭ সালের ৩ জুলাই রশ্মিকার নিজ শহর বিরাজপেটে তাঁদের এনগেজমেন্ট সম্প্ন্ন করেন। কিন্তু তাঁদের বনি বোনা না হওয়ায় ২০১৮ সালে তাঁরা তাঁদের সম্পর্কে ইতি টানেন। তারপর থেকে রশ্মিকা সিঙ্গেল জীবন যাপন করছেন । তবে ইদানীং অভিনেতা বিজয় দেবারকন্দা এর সঙ্গে তার ঘনিষ্টতা লক্ষ্য করা যায়। তবে রশ্মিকা ও বিজয় দুজনেই জানিয়েছেন তাঁরা একে অপরের খুব ভাল বন্ধু।

ভারতে এতো কম সময়ে এতো টাকা উপার্জন এবং সাথে সাথে কোটি কোটি ফ্যান ফলোয়িং বাড়ানো অভিনেত্রী আর নেই। অথচ এর জন্য কখনও বলিউডে আসার কথা ভাবতে হয়নি তাঁকে। তিনি এখন কোটি কোটি ভক্তের ক্রাশ এবং তাঁর ভুবন ভুলানো হাসিতে মজেছে তরুণ প্রজন্ম।