নিষিদ্ধ দেশ তিব্বত! যাঁদের প্রিয় খাবার উকুন! তিব্বতের ওপর দিয়ে উড়ে না প্লেন! আরো কত অজানা তথ্য......

নিষিদ্ধ দেশ তিব্বত এবং তিব্বতের রাজধানী লাসা নিষিদ্ধনগরী হিসেবে জানেন না এমন মানুষ খুব কমই আছে। কিন্তু কেন নিষিদ্ধ দেশ এবং লাসাকে নিষিদ্ধ নগরী বলা হয় তা জানার কৌতূহল হয়তো এখনো রয়ে গেছে অনেকের এটী নিষিদ্ধ দেশ হিসেবে পরিচিত হওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে এখানকার দুর্গম প্রকৃতি এবং দেশটির রাজধানী লাসা থেকে মাত্র 100 কিলোমিটার দূরে রয়েছে গোবি মরুভূমি  যা ভ্রমণকারীদের বরাবর নিরুতসাহিত করেছে। সেই সাথে হাজার হাজার ফুট উঁচুতে অবস্থিত হওয়ায় এবং বছরের প্রায় বেশির ভাগ সময়ই বরফে ঢাকা থাকার কারণেও এটি ভ্রমণে অনুপযুক্ত। তিব্বতী দের ধর্মীয় অনুভূতি এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে দীর্ঘদিন ধরে বাইরের মানুষদেরকে এই  শহরে প্রবেশের কোনো অধিকার ছিল না।  এর ফলে বহির্বিশ্বের কাছে নিষিদ্ধ নগরী হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে। তারসাথে জন্ম নিতে থাকে নানা রহস্য আর কাল্পনিক কাহিনী। আর সেই  সময়  থেকে এই অঞ্চলটি নিষিদ্ধ দেশ হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। অবশ্য ১৯৮০ সালের পর থেকে তিব্বত এর ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয় এবং ধীরে ধীরে পর্যটকদের কাছে উন্মুক্ত হতে শুরু করে শত শত বছর ধরে রহস্যের চাদরে মোড়া শহরটি।  কিন্তু এখনো ভ্রমণের ওপর কিছুটা কড়াকড়ি রয়ে গেছে বলা যায় পৃথিবীর ছাদ হিসেবে সুপরিচিত তিব্বতে।

কী আছে লাসায়, সেটা দেখার জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকত সমগ্র বিশ্ব। লাসার জনগোষ্ঠী, শহর, বন্দর, অট্টালিকা সব কিছুই ছিল সবার কাছে একটি রহস্যঘেরা বিষয়। লাসা নগরীতে ছিল বিখ্যাত পোতালা নামক একটি প্রাসাদ। এই প্রাসাদটি প্রথমবারের মতো বহির্বিশ্বের মানুষেরা দেখতে পায় ১৯০৪ সালে। আমেরিকার বিখ্যাত ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক পত্রিকায় এই বিখ্যাত অট্টালিকার ছবি ছাপা হয়। তিব্বতের চতুর্দিকে বিচ্ছিন্নভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অসংখ্য পাহাড় ও গুহা। সেই পাহাড়ি গুহাগুলোতে বাস করে বৌদ্ধ পুরোহিত লামারা। এই ছবি প্রকাশের পূর্ব পর্যন্ত বাইরের জগতের কেউ প্রাসাদটির ছবি দেখতে পায়নি। লাসা হল ঈশ্বরের দেশ। এখানে একধিক বৌদ্ধ মন্দির যেখানে প্রাজ্জলিত রয়েছে সোনার তৈরি অসংখ্য প্রদীপ। এমনকী সেখানে চারহাজার ভরি ওজনের একটি প্রদীপ রয়েছে। হয়ত নিরাপত্তা জনিত কারণেই বহুকাল লাসায় বহির্বিশ্বের কারোর ঢোকার অনুমতি ছিল না।

হিমালয়ের উত্তরে অবস্থিত ছোট একটি দেশ তিব্বত। ১৯১২ খ্রিস্টাব্দে ত্রয়োদশ দালাইলামা কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত গণচীনের একটি সশাসিত অঞ্চল তিব্বত। মধ্য এশিয়ায় অবস্থিত এই অঞ্চলটি তিব্বতীয় জনগোষ্ঠীর আবাসস্থল। এই অঞ্চলটি চীনের অংশ হলেও এখানকার অনেক তিব্বতি এই অঞ্চলকে চীনের অংশ মানতে নারাজ। ১৯৫৯ সালে গণচীনের বিরুদ্ধে তিব্বতিরা স্বাধিকার আন্দোলন করলে সেটি ব্যর্থ হয়। তখন দালাইলামার নেতৃত্বে অসংখ্য তিব্বতি ভারত সরকারের আশ্রয় গ্রহণপূর্বক হিমাচল প্রদেশের ধর্মশালায় বসবাস শুরু করেন। সেখানে স্বাধীন তিব্বতের নির্বাসিত সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। 

খাবার- দাবারের ও রয়েছে যথেষ্ট ভিন্নতা । শুনলে অবাক হবেন উকুন তিব্বতিদের অতি প্রিয় খাবার। ঐতিহ্যগত তিব্বতি সমাজের এক গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ যাযাবর বা রাখাল জীবনযাপন। ভেড়া, ছাগল ও ঘোড়া পালন তাদের প্রধান জীবিকা। শুধু চীনের তিব্বত স্বশাসিত অঞ্চলের মোট জনসংখ্যার ২৪ শতাংশ এই যাযাবর রাখাল সম্প্রদায়। এরা কখনও চাষাবাদের কাজ করে না। মোট ভূমির ৬৯ শতাংশ এলাকা চারণ বা তৃণভূমি।

শুধু দালাইলামাদের নিষেধাজ্ঞাই নয়, লাসার ভূপ্রকৃতিও এই শহরটিকে রহস্যময় করে রেখেছে। আইন কানুনের কঠোরতা ছাড়াও লাসা অবস্থানগতভাবে একেবারে বিচ্ছিন্ন একটি অঞ্চল আর একই সাথে পৃথিবীর উচ্চতম শহর যার উচ্চতা ১১,৯৭৫ ফুট। লাসা থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে গোবি মরুভূমি। প্রাণঘাতী বালির সমুদ্র পেরিয়ে এদিক থেকে লাসায় প্রবেশ করার সাহস কেউ করেনি আর অন্যদিকের দুর্গম পার্বত্য পথ পাড়ি দেওয়াও যথেষ্ট কষ্টসাধ্য। এছারাও বায়ুপথে এখনো এই অঞ্চলের ওপর দিয়ে এরোপ্লেন চলাচল করেনা। কারণ তিবত্তের উচ্চতার কারণে বিমানের জ্বালানি জমে যায় এবং তীব্র turbulence অনুভূত হয় এবং ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। ফলে কেউ কখনো লাসার দিকে পা বাড়ায়নি। আর এই কারণে নিষিদ্ধ নগরীর রহস্য বহুকাল ধরে রহস্যই থেকে যায়।