ঝাড়গ্রামের সেরা ৫ টি অজানা ভ্রমণস্থান। যা ভ্রমণপিপাসুদের একবার ঘুরে আসতেই হবে।

আচ্ছা ঝাড়গ্রাম বলতে মাথায় প্রথমে কি আসে? এক অপরূপ সৌন্দর্যমণ্ডিত একটা গ্রাম আর খানিকটা বোধহয় শহর! হ্যাঁ! দৃষ্টিনন্দন অরণ্য সুন্দরী, যার জঙ্গল আর রাস্তার দুই ধার শাল, পিয়াল, কেন্দু ও শিমুল দিয়ে সাজানো। আশ্চর্যজনক আকাশপাত্রে পরিবেষ্টিত নদী-নালা, ছোট্ট ছোট্ট পাহাড়, উঁচু-নিচু ঝাঁ-চকচকে রাস্তা, আর গভীর অরণ্য যা দর্শনার্থীদের বারংবার আকর্ষিত করে এই ঝাড়গ্রামের এর পথে।

ঝাড়গ্রাম এর রাজবাড়ী, কনক দূর্গা মন্দির, রামেশ্বর মন্দির, ডিয়ার পার্ক এগুলো প্রায় সকলেরই জানা। কিন্তু ঝাড়গ্রামের বুকে এমন কিছু অজানা অথবা আপনি বলতে পারেন কিছু কম জনশ্রুতি বিশিষ্ট সৌন্দর্যমন্ডিত স্থান রয়েছে যেগুলো অনেকের কাছেই অজানা বা কিছুটা জানা। 

চলুন জেনে নেওয়া যাক এমনই পাঁচটি ভ্রমণ স্থান......

১. বেলপাহাড়ি: 
বেলপাহারী পশ্চিমবঙ্গের ঝাড়গ্রাম জেলা থেকে 35 কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি উপজাতি গ্রাম। জায়গাটি ঘিরে রয়েছে সাল, মহুয়া, পিয়াল, সোনাঝুরি এবং ইউক্যালিপটাস গাছ। এই গ্রামের শান্তিপূর্ণ ও নির্মল পরিবেশ মন্ত্রমুগ্ধ করছে। বেলপাহারী থেকে কিছুটা দূরে ঘাগড়ায় একটি সুন্দর জলপ্রপাত অবস্থিত। তারাফেনি ব্যারেজটি নিকটে অবস্থিত এবং এটি দেখার পক্ষে উপযুক্ত। বেলপাহাড়ি তে পাহাড়ের বুক চিরে অঝোরে বয়ে চলছে নদীর জল। এবড়োখেবড়ো পাথুরে জায়গা সাথে সবুজ অরন্যানি।

২.গাডরাসিণী:

বেলপাহাড়ি থেকে সড়ক পথে ১০কিমি এবং খ্যাঁদারাণী  থেকে ৬ কিলোমিটার জনহলের পথ ধরে এগলেই পাহাড়ি পথে মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পসরা নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে গাডরাসিনী পাহাড় । প্রায় ৩০০ মিটার খাঁজ কাটা পাহাড়ী পথে গাডরাসিনীর চূড়ায় উঠে মন্দির দর্শন করা যায় । সেখাণে প্রকৃতির কোলে বসে পরিশ্রুত পাণীয় জল ও আশ্রমের গাছের ফল খেয়ে একদণ্ড বিশ্রাম নেওয়া এক অনণ্য অণুভূতি ।

৩.কাঁকড়াঝোড়:

গাডরাসিণী থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে সিংলহর পাহাড়ের গায়ে কাঁকড়াঝোড় । এখানে বুণো হাতিদের বিচরণক্ষেত্র । পর্যটকদের বিশ্রামের জন্য বনবিভাগের এখানে একটি সুন্দর বাংলো রয়েছে । কাছেই ময়ূরঝর্ণা প্রকৃতি এখাণে নিজেকে উজাড় করে দিয়েছে

৪.খ্যাঁদারানী:

বেলপাহাড়ি থেকে সড়ক পথে ১১কিমি জঙ্গলের পথ দিয়ে এগলেই পউছে যাবেন খ্যাঁদারাণী। তিনটি পাহাড়ে ঘেরা মনোমুগ্ধকর হ্রদ খ্যাঁদারানী । শীতের সময় সুবিশাল হ্রদে পরিযায়ী পাখির মেলা সেখানে। দক্ষিণে সুউচ্চ গাড়রাসিণী, পশ্চিমে সিংলহর পাহাড়, মাঝে দিগন্ত বিস্ত্রত জলাশয়ে পাখির ঝাঁক, বুণো শুয়োরের পাল এবং অরণ্যের নির্জনতা ভ্রমণপিপাসুদের চোখ জড়াণো অপরুপ প্রাকৃ্তিক সৌন্দর্য দিয়ে চলেছে খ্যাঁদারাণী । 

5: লালজল গুহা:

এই গুহাটি বেলপাহাড়ি থেকে সড়ক পথে প্রায় 19 কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। আর ঝাড়গ্রাম শহর থেকে প্রায় ৬৪ কিলোমিটার দূরে দিগন্ত – প্রসারিত লালজল পাহাড়। জঙ্গলের মধ্যদিয়ে ঝাঁ-চকচকে চড়াই উতরাই রাস্তা অতিক্রম করে শেষ তিন কিলোমিটার পাহাড়ী পথে লালজল গুহাতে পোছানো যায় । পাহাড়ের ২০০ মিটার উচ্চতায় পাথর কেটে গুহাটি একদা নির্মিত হয়েছিল। এখানে বসন্ত কালে লাল জল বের হতে দেখা যায় এবং সেই জল খুব সুস্বাদু। আর এই লাল জলের কারন এই গ্রামের নাম লালজাল। এখনে আবস্তিত গুহাটিতে হামাগুড়ি দিয়ে ঢুকতে হয় । বর্তমানে সেখানে সজারু ও বন্য জন্তুর বাস । পাহাড়ের মাথা থেকে দূরের দৃশ্য নয়নাভিরাম ।