কী ছিল আইনস্টাইনের মস্তিষ্কে ?? যা অন্য কারো মস্তিষ্কে নেই!

কি ছিলো আইনস্টাইন এর মস্তিস্কে? যা পৃথিবীর অন্য কারো মধ্যে নেই!

আজ প্রায় ৬০ বছর হতে চলেছে আইনস্টাইন এর মৃত্যুর, কিন্তু  আজও বিজ্ঞান আইনস্টাইন এর গবেষণা ছাড়া অনেকটাই অচল।আর এজন্যই পুরো বিশ্ব তাঁর সেই অস্বাভাবিক মস্তিষ্ক সম্পর্কে জানার জন্য অধীরভাবে আগ্রহী। সাধারণত বাচ্চারা এক অথবা দুই বছরে কথা বলা শুরু করলেও আইনস্টাইন কিন্তু চার বছর পর্যন্ত কোনো কথা বলেননি।একদিন আইনস্টাইন যখন তাঁর বাবা মা এর সাথে রাতের খাবার খাচ্ছিলেন হটাত তিনি বলে ওঠেন সুপটা খুবই গরম,  নিজের ছেলেকে প্রথম বার বলতে দেখে তাঁর বাবা মা খুবই অবাক হন এবং সাথে খুশিও হন।কিন্তু যখন তাঁকে জিঙ্গাসা করা হয় এতদিন কেন কথা বলেনি,, তখন তিনি এক আজব উত্তর দেন,,,  "তিনি বলেন আজ পর্যন্ত তো সবই তো ঠিকঠাক ছিলো"।

আইনস্টাইন এর জীবনের এরম আজব ঘটনা গুলো এখানেই শেষ হয়নি, বয়স বাড়ার সাথে সাথে যেন তাঁর আজব কাজকর্মও বাড়তে থাকে। যেমন আইনস্টাইন তারিখ এবং ফোন নাম্বার মনে রাখতে পারতেন না,, এমনকি নিজের টেলিফোন নাম্বার ও তিনি ভুলে যেতেন। একবার তাঁর এক সহকর্মী তাঁর টেলিফোন নাম্বার চাইলেন, আইনস্টাইন তখন নিজের ডায়েরিতে টেলিফোন নম্বর খুঁজতে থাকেন।এটা দেখে তাঁর সহকর্মী কিছুটা অবাক হয়ে জিঙ্গাসা করলেন, আপনি আপনার ফোন নাম্বার কেন মনে রাখেন না?তখন  আইনস্টাইন তাঁর সহকর্মীকে বললেন,  "এমন কিছুকে আমি কেনো মনে রাখবো যা আমি বই-এ খুঁজলেই পেতে পারি" ।


আইনস্টাইন সবসময় বলতেন, আমার ভেতরে তেমন কিছুই নেই, আসলে আমি এমন একজন মানুষ যার মাঝে কৌতূহল রয়েছে অনেক বেশি।

"১৯৫৫" সালে "১৮ এপ্রিল" আইনস্টাইন-এর মৃত্যুর পর প্যাথোলজীস্ট "ডঃ থমাস হার্ভে" আইনস্টাইনের পরিবারের অনুমতি ছাড়া গবেষনার জন্য উনার ব্রেন বের করে নেন এবং তিনি সেখান থেকে পালিয়ে যান। কেটে যায় অনেক বছর, কিন্তু গবেষণার জন্য অনুমতি না থাকায় আইনস্টাইনের ব্রেন পড়ে থাকে "ডঃ হার্ভে"-র কাছেই। পরবর্তীতে আইনস্টাইনের ছেলে "হ্যান্স আলবার্ট আইনস্টাইন" এর অনুমতি পাওয়ার পর ডঃ হার্ভে গবেষণা শুরু করেন।

প্রথমে তিনি আইনস্টাইনের ব্রেনের ওজন করেন। যেখানে একজন সাধারণ মানুষের ব্রেনের ওজন "১৩৩৬ গ্রাম" হয় সেখানে আইনস্টাইনের ব্রেনের ওজন ছিল মাত্র "১২৩০ গ্রাম"। এরপর ডঃ হার্ভে সেই ব্রেন টাকে ২৪০ ভাগে ভাগ করে সেগুলো বিশ্বের সব নামী দামি গবেষকদের কাছে পাঠিয়ে দেন। যাতে করে তাঁরা দেখতে পারে যে আইনস্টাইনের ব্রেনে এমন কি ছিল যা কোনো সাধারণ মানুষের থেকে এতটাই আলাদা। এরপর ডঃ হার্ভে আইনস্টাইনের ব্রেন টিস্যুর হাজার হাজার মাইক্রোসকপিক স্লাইড বানান, যাতে করে এই ব্রেন টির ভালোভাবে যাচাই করা যেতে পারে।

গবেষণার মাধ্যমে জানা যায়, আইনস্টাইনের ব্রেনে সাধারন মানুষের তুলনায় অনেক বেশী সেল্স ছিল। আইনস্টাইনের ব্রেনের "সেলিব্রাল কর্টেক্স" নামক অংশ-টা সাধারণ মানুষের তুলনায় অনেক আলাদা ছিল।আসলে এই "সেলিব্রাল কর্টেক্স" মস্তিষ্কের একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যাকে ব্রেন এর জটিল প্রক্রিয়ার প্রধান মাধ্যম বলা হয়ে থাকে। আর এটা ব্রেন এর এমন একটা অংশ যা খুবই অদ্ভুত ভাবে বিকশিত হতে থাকে।আর গবেষকদের মতে এটাই প্রধান কারণ ছিলো আইনস্টাইনের ব্রেনের অসাধারণ চিন্তাধারার।

যখন বিজ্ঞানীরা আইনস্টাইনের ব্রেন আবার পরীক্ষা করা শুরু করলেন, তখন তাঁরা অবাক হয়ে গেলেন কারণ তাঁর ব্রেনে "রিংকেলপারিইয়েটাল অপারেকুলাম" ছিলো না। যার কারনে তাঁর ব্রেনের "পারিয়েটাল লুপ"-এর  আকার সাধারণ মানুষের ব্রেনের তুলনায় ২০ শতাংশ বড়ো ছিল। আর গবেষক দের মতে এটাই কারণ ছিলো যা আইনস্টাইনের গাণিতিক হিসাবনিকাশ এবং তাঁর ইমাজিনেসেন সাধারণ মানুষের তুলনায় আলাদা করেছিলো।

এছাড়াও আইনস্টাইনের ব্রেনে নিউরোন এর পরিমাণ ও অনেক বেশি ছিলো যা তাঁর মনোযোগ ও দূরদর্শীতার জন্য আলাদা ভুমিকা রাখতো। বর্তমানে আইনস্টাইনের ব্রেন ৪৬ টুকরোতে আমেরিকার "ফিলাডেলফিয়া" নামক শহরের "মিটার যাদুঘর"-এ রাখা হয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনেকটা এগিয়ে গেলেও আইনস্টাইনের ব্রেন ও বুদ্ধিমত্বা একটা রহস্য হয়েই থেকে গেছে।