কেন পালন হয় ভ্যালেন্টাইন ডে? ভালোবাসা দিবস পালনের আসল কারণ ও উদ্দেশ্য কি?

ফেব্রুয়ারি মাস মানেই প্রেম প্রেম পরিবেশ। টানা কয়েক সপ্তাহ জুড়েই চলে প্রেম নিবেদন। আর ভ্যালেন্টাইন্স ডে মানেই প্রেম দিবস ,ভালবাসার দিন! যদিও ভালোবাসার জন্য কোনও নির্দিষ্ট দিনের প্রয়োজন পড়ে না তবুও এই দিনটি খুব স্পেশ্যাল ভাবেই কাটাতে চায় প্রেমিক প্রেমিকাগন। আর তখনই মনে পড়ে যায় কিশোর কুমারের অবিস্মরনীয়  সেই গান "  ভালোবাসা ছাড়া আর আছে কি?".... 

প্রতি বছর ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্বজুড়ে পালিত হয় ভ্যালেন্টাইন'স ডে। এই দিনটিতে প্রত্যেকেই তাদের প্রিয়জনের প্রতি ভালবাসা প্রকাশ করে। কিন্তু এই 'ভ্যালেন্টাইনস ডে' এই দিনটি কেন পালন করছেন জানেন কি? আসলে এর পেছনে আছে একটা গল্প। 

ঘটনাটি ঘটে 269 সালের গোড়ার দিকে, সেই সময় ইউরোপের রোম পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী সাম্রাজ্য ছিল। রোমের রাজা ছিল দ্বিতীয় ফ্লোরিয়াস, তিনি একজন নির্দয়ী ও অত্যাচারী রাজা ছিলেন। সেই সময় তিনি নিষ্ঠুরভাবে সারা পৃথিবীতে নিজের সাম্রাজ্য বিস্তার করেছিলেন। একবার ফ্লোরিয়াস তার সাম্রাজ্যে একটি সমীক্ষা চালান এবং সেই সমীক্ষার ফলস্বরূপ তিনি জানতে পারেন তার সাম্রাজ্যে অবিবাহিত পুরুষেরা বিবাহিত পুরুষের চেয়ে বেশি শক্তিশালী। এরপর ফ্লোরিয়াস নির্দেশ দেন তার সাম্রাজ্যে কোনো যুবক আর বিবাহ করতে পারবে না। এই নিষ্ঠুর ঘটনায় সারা রাজ্যবাসী নিরাশ হয়ে পড়ে। সেই সময়ে রোমে একজন খ্রিস্টান পাদ্রী বসবাস করতেন, যার নাম ছিল 'সেন্ট ভ্যালেন্টাইন'। রাজা ফ্লোরিয়াসের এই ঘোষণা সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের পছন্দ হয়নি। তিনি রাজার এই আদেশের বিরোধ করেন এবং দেশের যুবকদের বিবাহ করার জন্য উৎসাহিত করেন।

তার এই বিরোধিতার কথা রাজা ফ্লোরিয়াস-এর কানে পৌঁছানো মাত্র তিনি সেন্ট ভ্যালেন্টাইন কে গ্রেফতার করে কারাগারে বন্দি করার আদেশ দেন। সেন্ট ভ্যালেন্টাইন যে জেলে বন্দী ছিলেন সেই জেলের জেলার এর একটি অন্ধ মেয়ে ছিল। জেলার তার অন্ধ মেয়ের ব্যাপারে সেন্ট ভ্যালেন্টাইন কে সবকিছু বলেন এবং তার কন্যার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনার জন্য ভগবানের কাছে প্রার্থনা করতে বলেন। জেলারের কথামতো সেন্ট ভ্যালেন্টাইন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেন এবং তার প্রার্থনায় জেলারের কন্যা তার দৃষ্টিশক্তি পুনরায় ফিরে পায়।

দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার পর মেয়েটি সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের সাথে কারাগারে দেখা করতে আসেন, আর প্রথম দেখাতেই তাদের একে অপরকে ভাল লেগে যায়। পরবর্তীতে সেন্ট ভ্যালেন্টাইন তাকে বিবাহের প্রস্তাব দেন। আর এই কথা রাজা ফ্লোরিয়াসের কানে পৌছানো মাত্র তিনি সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে বিবাহের বিরোধিতা করতে বলেন, কিন্তু সেন্ট ভ্যালেন্টাইন রাজার এই কথা অমান্য করেন। রাজা ফ্লোরিয়াস তখন সেন্ট ভ্যালেন্টাইন কে ফাঁসির আদেশ দেন। ফাঁসির আদেশ শোনা মাত্র সেন্ট ভ্যালেন্টাইন তার প্রেমিকাকে একটা প্রেমপত্র লেখেন যার উপরে তিনি লেখেন 'FORM YOUR VALENTINE'। রাজা ফ্লোরিয়াস 14 ই ফেব্রুয়ারি 1969 সালে সেন্ট ভ্যালেন্টাইন কে ফাঁসি দিয়ে দেন। এরপর থেকেই 14 ই ফেব্রুয়ারি দিনটি সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের স্মরণে ভ্যালেন্টাইন ডে বা ভালোবাসা দিবস নামে পালন করা হয়। 

কিন্তু যাই হোক প্রচলিত এই কাহিনীটি কতটা সঠিক তা আমরা জানিনা, তবে এটুকু জানি যে ভালোবাসা প্রকাশের জন্য কোন বিশেষ দিনের প্রয়োজন হয় না। প্রতিটি দিনই ভালোবাসার দিন, ভালোবাসা প্রকাশের দিন। 

তবুও প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী 14 ই ফেব্রুয়ারি দিনটি আমাদের কাছে একটি বিশেষ ভালোবাসার দিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।