ইতিহাসের প্রথম প্যান্ট পরিহিত মহিলা কে ছিলেন ? যিনি প্রথম সার্বজনিক ভাবে প্যান্ট পরেন...

আজ হয়তো বিশ্বজুড়ে মেয়েদের জিন্স, লেগিন্স,ফুল বা হ্যাফ প্যান্ট পরা টা কোন ব্যাপার নয়। ভিন্ন পরিস্থিতি ও পরিবেশ মানুষের পোশাকও পাল্টে  দেয়। কিন্তু বিশ্বজুড়ে অনেক নারী আজও নিজেদের পোশাক পরিধানের বিষয়ে বিধি নিষেধ নিয়ে লড়াই করে যাচ্ছে। কারণ ইচ্ছে করলেই তো সামাজিকভাবে নিজের যা খুশি তাই পড়া যায় না। বিশেষত শালীনতা সংরক্ষণ করাটা বোধহয় মেয়েদের দায়ভার টা  একটু বেশি।  কত সমালোচনা, কত আন্দোলন, কটুক্তি সবই কাটিয়ে মেয়েরা আজকে সামাজিকভাবে প্যান্ট পরিধানে সফল। তবে জেনে নেওয়া যাক মহিলাদের প্যান্ট পরা সেই ইতিহাসের সংক্ষিপ্তসার....

ঊনবিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে ফ্যানি রাইট নামক পশ্চিমা মহিলাই প্রথম প্রকাশ্যে সামাজিক ভাবে ও আধুনিক ভাবে প্যান্ট পরিধান করেন। তবে একথা মিথ্যে নয় যে ইতিহাসে উল্লেখ্য বহু কর্মজীবি এবং লড়াইকারি মহিলারা প্যান্টের কিছু সংস্করণ, মানে সোজা কথায় প্যান্টের মতো দেখতে পোশাক পরিধান করেন। তবে তাঁদের মধ্যে কে প্রথম প্যান্ট পরিধান করলেন তা বলা বা খুঁজে বের করা খুব মুশকিল।

তবে এলিজাবেথ স্মিথ মিল্লার কেই প্রথম মহিলা হিসেবে বিবেচনা করা হয় যিনি প্যান্ট এর ডিসাইন বানান এবং প্রথম প্যান্ট পরেন। ১৮০০ শতকে ইউনাইটেড কিংডম এর মহিলাদের ভোট দানের অধিকার আন্দোলনের তিনি মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। ১৮৫১ সালে একদিন বাগানে কাজ করার সময় এই এলিজাবেথ মিল্লার তুর্কিশ স্টাইল এর প্যান্ট তৈরি করে ফেলেন। তিনি মূলত যে ধরনের প্যান্ট তৈরি করেন, সেগুলি স্কার্টের নিচে পরা হত এবং গোড়ালি অব্দি সংকীর্ণ ছিল। ভিক্টোরিয়ান যুগের নারীদের শালীনতা সংরক্ষণ করেই এই প্যান্ট পরে চলাচলের স্বাধীনতা দেওয়ার জন্যই অর্থাৎ কমফোর্টেবল ভাবে রাস্তায় চলাফেরা করার জন্যই ডিজাইন করা হয়েছিল। কারণ তখন মহিলাদের ভারী গ্রাউন পরতে হত যা পরে কাজ করা ও চলাফেরা করতে আসুবিধে হত। তবে প্রথমদিকে মহিলাদের প্যান্ট পরার সমর্থক ছিলেন শুধুমাত্র কিছু মহিলা আইনজীবী আর কিছু চিকিৎসক। এবং যারা বিশেষত মহিলা আন্দোলনের সাথে কোনো না কোনও ভাবে জড়িত ছিলেন।  এছাড়া পাবলিক প্লেসে মহিলাদের প্যান্ট পরিধান করায় কিছু বিধিনিসেধ ছিল। তাই নিজের ইচ্ছে খুশি কোনও সাধারণ মহিলা প্যান্ট পরে রাস্তায় বেরতেন না।

               

  

সেই সময় এই নিয়ে মিডিয়া কম জল ঘোলা করে নি। যারা প্যান্ট পরতেন মানে যে মহিলারা প্যান্ট পরতেন, তাদের তীব্র সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয় হয়েছিল। 

তবে বিশ্বযুদ্ধের আগে প্রকাশ্যে মহিলাদের প্যান্ট পরে খুব অল্প সময়ের জন্যই দেখা গিয়েছিল। তারপর প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় কিছু বেসামরিক মহিলা মাঝেমধ্যে যুদ্ধে প্যান্ট পরে নেমে ছিলেন। আবার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় প্যান্ট পরা আরো ব্যাপকভাবে মানে সামরিক ও বেসামরিক উভয় ক্ষেত্রেই সামাজিকভাবে ধৃত হয়। এরপর যুদ্ধ শেষ হয়ে গেলেও মহিলারা প্যান্ট পড়তে থাকে। কারণ তখন প্যান্ট পরা টা খুব উপভোগ করতে থাকেন ওনারা। বিশেষত খেলাধুলা বা অবসর সময়ে আর আস্তে আস্তে ১৯৬০ থেকে সত্তরের দশকে স্টাইল এর প্রবণতা বাড়তে দেখা যায় এবং জনসাধারণের সামনেই, ঘরে-বাইরে আর কর্ম ক্ষেত্রেও উপযুক্ত পোশাকের বিকল্প হিসেবে প্যান্ট পরা শুরু হয়ে যায়।

যদিও বিশ্বের ইতিহাসে প্রথম প্যান্ট পরিহিত মহিলা কে তা জানা সম্ভব না হলেও, বিভিন্ন সময়সীমা আর পরিস্থিতিতে প্রথম প্যান্ট পরিধান করা মহিলাদের ধন্যবাদ! যাঁদের জন্য অন্য মহিলারা তাঁদের স্বাধীনতা অনুযায়ী পোশাক পরিধান করার সক্রিয় স্বাধীনতা পেয়েছে ।