বয়স কি কমতে পারে?


বয়স আসলে কি? জন্ম বা উৎপত্তি কাল থেকে অতিবাহিত সময় হল বয়স। সুতরাং বয়স হলো অতিবাহিত সময় যা কমবে তখনই যখন সময়ের প্রবাহ বিপরীতমুখী হবে। যা সম্ভব নয়। অন্তত আজ পর্যন্ত হয়নি। হলে কি ভালোই না হত, তাইনা? যুবক থেকে আবার শৈশবে ফিরতে ইচ্ছে করলেই তা করা যেত। আবার যদি তা বিনামূল্যে হতো তাহলে তো কোন কথাই নেই।
এবার যদি আমরা বিশেষভাবে জীবদেহের বয়সের কথা বলি - জন্মের পর থেকে সমস্ত জীবেরই বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দৈহিক বিকাশ ঘটতে থাকে এবং মস্তিষ্ক যুক্ত প্রাণীর মানসিক বিকাশ। একসময় পরিণত পর্যায়ে পৌঁছায় এবং তারপর আবার ঘটতে থাকে অবনতি। বিভিন্ন কলার মধ্যে কোষের মৃত্যু ঘটে জীবদেহের শরীর জীর্ণ হয় এবং অবশেষে হয় তার মৃত্যু।


জীব বিদ্যার এই নিয়ম প্রায় সব জীবের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ঠিকই পড়েছেন "প্রায়" কারণ এক প্রকার জেলিফিশ এই নিয়ম মেনে চলে না। Turritopsis dohrnii নামের জেলিফিশ কে আমরা সবাই ইম্মর্টাল জেলিফিশ নামে জানি। প্রাপ্তবয়স্ক ইম্মর্টাল জেলিফিশ, যা আয়তনে মানুষের কনিষ্ঠা আঙ্গুলের নখের মত, পুনরায় তাদের শৈশব অবস্থায় ফিরে যেতে পারে। এদের জন্ম ও মৃত্যু স্বাভাবিক পদ্ধতিতে হলেও অনাহার, শারীরিক ক্ষতি, হঠাৎ তাপমাত্রা হ্রাস বা অন্যান্য সংকটে এই রা নিজেদেরকে শৈশবে ফিরিয়ে নিয়ে আসে।


প্লানুলা নামের মুক্ত ভাসমান লার্ভা থেকে এদের জীবন শুরু হয়। এরপর এটা সমুদ্রের তলদেশে পলিপ কলোনি বা হাইড্রয়েড এ পরিণত হয়। এরপর এই হাইড্রয়েড গুলি জেলিফিশে পরিণত হয় এবং এর আয়তন হয় প্রায় ১ মিলিমিটার। এগুলি প্লাংটন খেয়ে কয়েক সপ্তাহে প্রাপ্তবয়স্ক জেলিফিশে পরিণত হয়। ২২° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় প্রায় ২৫ থেকে ৩০ দিন এবং ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ১৮ থেকে ২২ দিন সময় লাগে প্রাপ্তবয়স্ক জেলিফিশে পরিণত হতে।


জেলিফিশে পরিণত হওয়ার পর থেকে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর পর্যন্ত যে কোন সময় থেকেই এটা আবার ঘুরে পলিপ অবস্থায় ফিরে যেতে পারে। অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থান থেকে পলিপ অবস্থায় যাওয়ার সময় এটা নিজেকে একটি সিস্ট এ পরিণত করে তারপর পলিপ এ পরিণত হয়। কিন্তু ২০ থেকে ৪০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক জেলিফিশ পলিপ অবস্থায় যাওয়ার সময় সিস্ট দশার মধ্য দিয়ে যায় না। জেলিফিশের কোষগুলি প্রায়শই সম্পূর্ণভাবে রূপান্তরিত হয়ে যায়। একটি পেশী কোষ স্নায়ু কোষ এ পরিণত হতে পারে এমনকি শুক্রাণু ও ডিম্বানুতেও পরিণত হতে পারে।

এই জেলিফিশের এই অভাবনীয় ক্ষমতা চিকিৎসা বিজ্ঞানে বা ঔষধ শিল্পে আমূল পরিবর্তন ঘটাতে পারে বলে অনেকের ধারণা। কিন্তু এর থেকে অ্যান্টি এজিং ঔষধ তৈরীর কল্পনা অনেক বিজ্ঞানী নস্যাৎ করেছেন। তবে অনেকে মনে করেন এই জেলিফিশের বয়স কমানোর রহস্য উদঘাটন করতে পারলে হয়তো ক্যান্সারের চিকিৎসার কোনো উত্তর পাওয়া যেতে পারে।