মাঙ্কাড়িং: আইন সম্মত কিন্তু অপরাধ?

    ঘটনার দেড় বছর পরেও রবীচন্দ্রন আশ্বিন কে সবাই বিদ্রুপ করে চলেছেন। ঠিক আছে সবাই নন, অনেকেই। ২০১৯ এর আইপিএল এ রাজস্থান রয়ালস ও কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব এর খেলায় এই ডানহাতি অফ্ স্পিনার, রয়ালস এর ব্যাটসম্যান জস বাটলার কে রান আউট করেন। যদিও কেউই এটিকে রান আউট বলতে রাজি নন, বলেন "মাঙ্কাড়িং"। ১৯৪৭-৪৮ সালে, ভারত বনাম অস্ট্রেলিয়া খেলায় একটি টেস্ট ম্যাচে ভারতের বাঁহাতি বোলার ভিনু মাঙ্কাড় অস্ট্রেলীয় ব্যাটসম্যান বিল ব্রাউনকে রান আউট করেন। বল করার আগেই যখন ব্রাউন পপিং ক্রিজের বাইরে রানের জন্য আগাম এগিয়ে যান তখনই মাঙ্কাড় বল না ছুঁড়ে উইকেট ভেঙ্গে দেন। ক্রিকেটের নিয়ম অনুযায়ী বিল কে মাঠ ছাড়তে হয় এবং এই আউটে অস্ট্রেলীয় সংবাদ মাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয়ে যায়। ভিনু মাঙ্কাড় এর নাম অনুযায়ী এই রান আউটকে লোকে "মাঙ্কাড়িং" বলা শুরু করে। আশ্বিন এর জস বাটলার আউট করার পর অনেকেই এর নিন্দা করেন যার মধ্যে আছেন রিকি পন্টিং, মিচেল স্টার্ক, ডেল স্টেইন ইত্যাদি। আবার ইংরেজ বোলার জেমস অ্যান্ডারসন, আশ্বিনের একটি ছবিকে কুচিকুচি করে করার ভিডিও আপলোড করেন সোস্যাল মিডিয়ায়।


    গত বৎসর আশ্বিন কিংস ইলেভেন এর হয়ে খেলেছিলেন, এই বৎসর খেলবেন দিল্লী ডেয়ারডেভিলস এর হয়ে। দিল্লীর কোচ রিকি পন্টিং বলেন যে তিনি আশ্বিন কে মাঙ্কাড়িং করতে দেবেন না। এরপর পন্টিং ও আশ্বিনের ভিডিও কল এ আশ্বিন বলেন যে তিনি ১২ বছর বয়স থেকে এই রকম রান আউট করছেন কারণ ব্যাটসম্যানের ২ গজ বেরিয়ে যাওয়ার সুবিধে নেওয়াটা তার সবদিন ই অন্যায় বলে মনে হয়। পন্টিং বলেন যে এর জন্য ১০ রান পেনাল্টি দেওয়া যায় কিন্তু আউট করাটা একটু বেশি কঠোরতা।

বিল ব্রউনের আউটের খবর।


    সবারই বক্তব্য যে এই ধরনের রান আউট ক্রীড়া মনস্কতার বিরুদ্ধে। ক্রীড়া মনস্কতা(স্পোর্টিং স্পিরিট) বলতে যা বোঝায় তা হলো আমরা নিয়ম মেনে খেলবো কিন্তু নিয়মের অবৈধ সুবিধা নেবো না এবং সর্বোপরী খেলার মধ্যে কোনো ব্যক্তিগত রাগ বা হিংসা খেলার মধ্যে টেনে আনবো না। কিন্তু এই ধরনের রান আউট কি সত্যি ন্যায্য নয়?
আপনি হয়তো খেলা দেখার সময় লক্ষ্য করেছেন যে ব্যাটসম্যান ফাস্ট বোলার এর বল মিস করার পরে উইকেট রক্ষক বল ধরার সঙ্গে সঙ্গেই উইকেট লক্ষ্য করে বল ছুঁড়েছে এবং লাগিয়েছে, কিন্তু তা সত্ত্বেও নন স্ট্রাইকার রান সম্পন্ন করেছে। এটা কি ভাবে সম্ভব? হয়তো সম্ভব না, যদি না নন স্ট্রাইকার পপিং ক্রিজ ছেড়ে যায় বোলারের বল ছোঁড়ার আগেই। যখন ব্যাটসম্যান বল করার আগেই ১-২ গজ এগিয়ে যায় তখন তাকে আর ২২ গজ ছুটতে হয় না, ২০ গজেই রান সম্পন্ন হয়। এটা কি ব্যাটসম্যানের ক্রীড়া মনস্কতার পরিচয় দেয়? বোলার যদি ২ ইঞ্চি সামনে থেকে বল ছোঁড়ে তাহলে তাকে ওই ১ রান ও ১ বল পেনাল্টি, তার সঙ্গে ওই বল আর পরের বলে বোলারের আউট করার ক্ষমতা হরণ করা হয়। তাহলে ব্যাটসম্যান করতে পারে কেন?
    ব্যাটসম্যান যতবার বল ছোঁড়ার আগে ক্রিজ ছাড়ে ততবার ক্রীড়া মনস্কতার লঙ্ঘন করে। তাই হয়তো এত বিদ্রুপ সত্ত্বেও এই রান আউটের নিয়ম প্রত্যাহার করা হয়নি। যদি এই নিয়মের প্রত্যাহার করতেই হয় তাহলে ব্যাটসম্যানের সমান পেনাল্টি রাখা উচিত নয় কি? যতবার ব্যাটসম্যান বল ছোঁড়ার আগে ক্রিজ ছাড়বে ততবার যদি ৫ রান পেনাল্টি করা হয় তাহলে হয়তো আর এই রান আউটের প্রয়োজনই পড়বে না। ভারতীয় ফাস্ট বোলার এবং আইসিসির ম্যাচ রেফারি জাভাগাল শ্রীনাথ বলেন, "বোলারের সহানুভূতি খোঁজার পরিবর্তে ব্যাটসম্যানের ক্রিজের মধ্যেই থাকা উচিত"। বোলারের আগে সম্ভবত ব্যাটসম্যানের ক্রীড়া মনস্কতা সংশোধনের প্রয়োজন।