পিরামিড কি বহির্জাগতিক প্রাণীর তৈরী?

          পিরামিডগুলো সেই সব মানুষের নির্মাণ কুশলতার সত্যিকার প্রমাণ যারা আমাদের আধুনিক যন্ত্রপাতি আবিষ্কারের অনেক আগে বসবাস করতো। ষাট লক্ষ টন কাঠামো ঠিক কীভাবে নির্মিত হয়েছিল তা নিয়ে মিশরবিদরা এখনও দ্বিমত পোষণ করেন। আবার গিজার মহা পিরামিড তৈরির লক্ষ লক্ষ পাথর ও প্রায় অপার্থিব নির্ভুল ভাবে তৈরি অবাক করায়। এটি একটি চিরস্থায়ী প্রশ্নে পরিণত হয়েছে যে, এই নির্মাণ গুলি মানুষের পক্ষে তৈরি সম্ভব ছিল নাকি এই বিস্ময়কর সমাধিসৌধ নির্মাণে বহির্জাগতিক প্রাণীর হাত ছিল? শুধুমাত্র মিশরে প্রায় শতাধিক পিরামিড রয়েছে, মায়ানদের মতো অন্যান্য সভ্যতার দ্বারা নির্মিত বিশ্বজুড়ে পিরামিডগুলি ছাড়াও। কীভাবে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে এই দুটি সংস্কৃতি একই আকারের, একই রকম চিত্তাকর্ষক একক স্থাপত্য তৈরি করছিল, সভ্যতার কোনও যোগসূত্র রয়েছে কিনা তা অনেকেরই প্রশ্ন। এক প্রত্নতাত্ত্বিক বলেছিলেন, "মায়া এবং মিশরীয়দের মধ্যে ভাল নির্মান, পুরোহিত, প্রযুক্তিবিদ ছিলেন কিন্তু, যোগাযোগের কোনও প্রমাণ নেই।"

          এখানে আমরা গিজার মহা পিরামিড নিয়ে কথা বলব । এটি চার হাজার বছর আগে নির্মিত হয়েছিল এবং এর বয়সের মতোই চিত্তাকর্ষক ব্যাপার হল, পিরামিডের সমাধিগুলি সঠিক উত্তর-দক্ষিণে সারিবদ্ধ ভাবে রয়েছে, একটি চমকপ্রদ কীর্তি যা এই সময়ের জন্য প্রায় অসম্ভব বলে মনে হয়। প্রাচীন পান্ডুলিপি থেকে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি এগুলো তারা করলো কিভাবে। যদিও পণ্ডিতেরা মনে করেন যে নক্ষত্রের অবস্থান দেখে মিশরীয়রা উত্তরদিকে নির্ধারণ করেছে। যদিও সবাই সেটা বিশ্বাস করেন না, অনেকে মনে করেন এতটা নিখুঁত ভাবে গণনা করা তখনকার মানুষের পক্ষে সম্ভব না। একটা সহজ অনুমান এই যে, তারা ওলন ব্যবহার করেছিল নিখুঁত ভাবে স্থাপত্য নির্মাণের জন্য। আর একটি আকর্ষক ধারণা হলো যে এই পিরামিড তৈরি হয়েছে হুবহু পৃথিবীর মাত্রা অনুযায়ী। পিরামিডের উচ্চতা ও পরিসীমা পৃথিবীর ব্যাসার্ধ ও পরিধির ১/৪৩২০০ অংশ। এমনকি এই পিরামিডের বিভিন্ন পরিমাপের সূর্যের ভর, আলোর বেগ, চাঁদের বেগের সঙ্গে মিল পওয়া যায়। স্বীকৃত ধারণাটি হল এটি ২০ বছর ধরে নির্মিত হয়েছে খ্রিস্টপূর্ব ২৫৬০ সালে।

এটি আসলে তখন অসম্ভব মসৃণ ও পালিশ করা চুনাপাথরের তৈরি হয়েছিল। এই পিরামিডের উচ্চতা ৪৮১ ফুট(১৪৬.৫ মিটার) এবং ভূমির প্রতি পাশের দৈর্ঘ্য ৭৫৫.৯ ফুট(২৩০.৪ মিটার) এবং ভর ৫৯ লক্ষ টন। আগে মনে করা হতো যে প্রায় ১ লক্ষ শ্রমিক ২০ বছর ধরে এটা তৈরি করেছে, কিন্তু এখন ঐতিহাসিকরা মনে করেন যে ২০ হাজার শ্রমিক কাজ করেছে, এবং তারা ছিল দক্ষ শ্রমিক। বিশাল খাদ্য পরিবেশনেরও প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই ৪৮১ ফুট পিরামিড তৈরি হয়েছে পাথর দিয়ে যার এক একটি ৮০ টন অবধি ভারী, ১১টি প্রপ্তবয়স্ক আফ্রিকান হাতির সমান। যদিও বেশিরভাগ পাথর অপেক্ষাকৃত ছোট, তবুও সেগুলি ৫০০ মাইল দূর থেকে বয়ে আনা সামান্য ব্যাপার নয়। অনেকে মনে করেন স্লেজ গাড়ি করে পাথর গুলো টেনে আনা হয়েছে এরকম দেওয়াল চিত্রও পাওয়া গেছে, আবার অনেকে মনে করেন ওগুলো মরুভূমির বালির ওপর জল ঢেলে ঢেলে তার ওপর দিয়ে টেনে আনা হয়েছে।

         অনেক জিনিস আছে যার উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি। হতে পারে প্রাচীন মানুষকে আমরা যতটা বুদ্ধিমান ভাবী, তারা তার থেকে বেশি বুদ্ধিমান ছিল। হতে পারে তাদের কাছে আরও অনেক উন্নত যন্ত্রপাতি ছিল যার প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। আবার "Silurian Hypothesis" তত্ত্ব থেকে প্রশ্ন হতে পারে যে আগে হয়তো এতটাই উন্নত প্রযুক্তি ছিল যে আমাদের আধুনিক পদ্ধতিতে তা ধরা সম্ভব নয়। কিন্তু মনে রাখবেন, কোনো নথি এর প্রমাণ দেয়না। তবে সম্ভবত কোন এলিয়েন পিরামিড তৈরিতে মিশরীয় দের সাহায্য করেনি, কিন্তু তারা যেটা করেছে সেটা অসাধারণ।

এ বিষয়ে আপনার মতামত কি? পিরামিড কি এলিয়েন দের তৈরী? আপনার মতামত কমেন্ট করে জানান।