সুশান্তই প্রথম নয়; তালিকায় রয়েছে আরও অনেকে!

বলিউড নামটা উচ্চারণ করলে প্রথমেই আমাদের মনে এক দারুন গ্ল্যামারাস জগতের ছবি ভেসে ওঠে। কিন্তু এই জাঁকজমক আর চাকচিক্যের ভেতরে রয়েছে অনেক ব্যর্থতা, বেদনা, রেষারেষি, দ্বন্দ্ব, ষড়যন্ত্র, অবসাদ এবং রহস্য। অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু আমাদের অনেক প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল আরও একবার। কিন্তু এটাই প্রথম বার নয়। আগেও বলিউডের অনেক মৃত্যুই জন্ম দিয়েছে অনেক রহস্য আর বেশ কিছু প্রশ্নের। আজ তেমনই কিছু অভিনেতা ও অভিনেত্রীর আশ্চর্য জনক  মৃত্যুর ঘটনা সম্বন্ধে জানব যে গুলি আজও রহস্যাবৃত। 

         ১। গুরু দত্ত: 

অভিনেতা, পরিচালক এবং প্রযোজক গুরু দত্ত ১৯২৫ সালের ৯ই জুলাই বেঙ্গালুরু শহরে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর  প্যায়াসা, কাগজ কে ফুল, সাহিব বিবি আউর গুলাম প্রভৃতি জনপ্রিয় চলচিত্র গুলি আজও অমর হয়ে রয়েছে। কিন্তু এই বিখ্যাত অভিনেতা ১৯৬৪ সালের অক্টোবর মাসে মাত্র ৩৯ বছরেই অস্বাভাবিক ভাবে মারা যান। মুম্বাইয়ের পেডার রোড-এর বাড়িতেই মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় তাঁকে। বলা হয় গীতা দত্তের সাথে জটিল বৈবাহিক সম্পর্কই তাঁর এই অকাল মৃত্যুর জন্য দায়ী। জানা যায় অত্যাধিক মাত্রায় ঘুমের ওষুধ সেবন আর তারই সাথে মদ্যপানের ফলেই তিনি মারা যান। যদিও তিনি দূর্ঘটনাবশত মারা গিয়েছিলেন না আত্মহত্যা করেছিলেন তা এখনও রহস্য হয়েই রয়ে গিয়েছে। 

         ২। পারভীন ববি:

 সত্তরের দশকের গ্ল্যামার ক্যুইন পারভীন ববির মৃত্যু ছিল শোচনীয় এবং ভয়ানক। প্রায় ৫০ টি হিন্দি সিনেমাতে সফলতার সাথে অভিনয় করা এই অভিনেত্রীকে ২০০৫ সালের ২০শে জানুয়ারী তাঁর নিজের ফ্ল্যাটেই মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। ওই সোস্যাইটির সেক্রেটারি লক্ষ্য করেন তাঁর বাড়ির সামনে তিন দিন খবরের কাগজ আর দুধ সংগ্রহ করা হয়নি। তিনি পুলিশে খবর দিলে দেখা যায় অভিনেত্রী তাঁর খাটের ওপর মৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন। তাঁর শরীর ছিল রুগ্ন এবং পচাগলা, বাম পায়ে ছিল ব্যান্ডেজ। ডায়াবেটিসে ভুগে গ্যাংগ্রিন হয়ে গিয়েছিল বাম পায়ে। হাঁটা চলার শক্তি হারিয়ে ফেলেছিলেন। যৌবনে অনেক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া পারভীনের শেষ জীবন কেটেছে চরম একাকীত্বে। বলা হয় তিনি এক জটিল মানসিক রোগেও ভুগছিলেন। হাসপাতালের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট বলা হয় তাঁর পেটে অ্যালকোহল ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায়নি।

        ৩। দিব্যা ভারতী:

৯০এর দশকের এই অপূর্ব রূপসী অভিনেত্রী মাত্র ১৯ বছর বয়সে তাঁর মুম্বাইয়ের অ্যাপার্টমেন্টের পাঁচ তলা থেকে পড়ে মর্মান্তিক ভাবে মারা যান। দিনটা ছিল ১৯৯৩ সালের ৫ই এপ্রিল। বাড়িতে ওই দিন কয়েকজন অতিথিও ছিলেন যাঁরা তাকে কুপার হাসপাতালে নিয়ে গেলে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরজনিত কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যায়। পুলিশের তদন্তে মদ্যপান জনিত দুর্ঘটনার তত্ত্ব উঠে এলেও অনেকেই মনে করেন এটা ছিল পরিকল্পিত হত্যা। তাঁরা মনে করেন অতি অল্প বয়সে খ্যাতি লাভই তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ।

 

          ৪। সিল্ক স্মিতা:

বিদ্যা বালানের 'দ্যা ডার্টি পিকচার' সিনেমার কথা নিশ্চয়ই সবারই মনে আছে। দক্ষিণ ভারতের অভিনেত্রী বিজয়ালক্ষি ভাদলাপাতির বাস্তব জীবনের কাহিনী নিয়েই এই সিনেমা তৈরি হয়েছিল। তিনি ১৭ বছরের অভিনয় জীবনে ৪৫০ টিরও বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন। মূলত সাহসী চরিত্র গুলিতেই তিনি বেশি সাবলীল ছিলেন। কিন্তু জীবনের শেষ দিন গুলিতে বড্ড একা হয়ে পড়েছিলেন। অর্থনৈতিক অভাব এবং একাকীত্ব তাঁকে অবসাদগ্রস্থ এবং মাদকাসক্ত করে তুলেছিল। শেষ পর্যন্ত সিল্ক স্মিতা নামে খ্যাত এই লাস্যময়ী অভিনেত্রীকে আত্মহত্যার মত চরম পথ বেছে নিতে হয়। ১৯৯৬ সালের ২৩শে সেপ্টেম্বর গলায় দড়ি দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। অনেক এই মৃত্যুকে রহস্য জনক বলেও মনে করেন।

          ৫। জিয়া খান:

এই সম্ভাবনাময়ী অভিনেত্রী ২০১৩ সালের ৩ই জুন মাত্র ২৫ বছর বয়সে নিজের বাড়িতে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন। তাঁর মৃত্যুও সুশান্তের মতোই এক বিতর্কিত অধ্যায় হয়ে রয়ে গিয়েছে। তাঁর মৃত্যুর পেছনে তাঁর বন্ধু সুরজ পাঞ্চোলির প্ররোচনা আছে বলে অভিযোগ ওঠে। এমনকি জিয়াকে গর্ভপাত করতে বাধ্য করা হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। যদিও জিয়া খানের মৃত্যু আত্মহত্যা না খুন সে বিষয়ে অনেক রহস্য আর বিতর্ক রয়েই গিয়েছে।

এছাড়াও বলিউডের  আরও অনেক অনেক মৃত্যু রহস্য কালের ক্রমে ঢাকা পড়ে গেছে। সাম্প্রতিক সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু আরও একবার আমাদের স্মরণ করিয়ে দিল সেই সব হারিয়ে যাওয়া মৃত্যুর ঘটনা গুলি।