কে এই ধনুকধারী শিশু, যার তীরে প্রেম আছে?

ভ্যালেন্টাইন্স ডে সবে গেল। আমরা অনেকেই আমাদের প্রিয়জনকে অভিনন্দন জানিয়েছি বিভিন্ন কার্ড এসএমএস এর মাধ্যমে অনেকেই অনেক মিম শেয়ার করেছি বন্ধু-বান্ধবের সাথে। এসব ক্ষেত্রে বা অন্য কোনো সময়ে আমরা অনেকেই এরকম কিছু চিত্র দেখেছি যেখানে একটি ডানাযুক্ত শিশু মূর্তি তীর-ধনুক নিয়ে আছে। আর এই তীরের আঘাতে কি হয় বলুন তো, রক্তপাত নয় এই তীর বিঁধলে মানুষ প্রেমে পড়ে যায়। কিন্তু কে এই শিশু?

Jean-Jacque-François le Barbier - Cupid in a Tree - Google Art Project


     ইংরেজি ভাষায় কিউপিড এবং ল্যাটিন ভাষায় কুপিডো বলে অভিহিত এই শিশু হল রোমান কামনার দেবতা। যদিও রোমানদের অনেক আগেই দেবতা গ্রিকদের কাছে এরোস নামে সুদর্শন ভালোবাসার দেবতা হিসেবে পরিচিত ছিল। প্রথম যে লেখকগণ এরোসের নাম উল্লেখ করে গেছেন তাদের মধ্যে একজন গ্রিক কবি হেসিওড তাঁর রচনা "থিওগোনিয়া"-তে লিখেছেন যে এরোস ছিলেন আদি মহাজাগতিক দেবদেবীর মধ্যে একজন যার উৎপত্তি হয়েছে বিশ্ব ডিম্ব থেকে। [কিছু সভ্যতার বিশ্বাস অনুসারে বিশ্বের উৎপত্তি হয়েছে ডিমের মতো এক বস্তু থেকে]

Edme Bouchardon, Cupid, 1744, NGA 41708

  এডমে বাউচার্ডন, কিউপিড, 1744, ন্যাশনাল গ্যালারী অফ আর্ট , আমেরিকা যুক্ত রাষ্ট্র


     কিন্তু পরবর্তীকালে এরোসের বংশ বিবৃতিতে বিভিন্নতা পাওয়া যায়। কোথাও তাকে নাইক্স এবং ইরেবাসের পুত্র হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে আবার কোথাও আফ্রোডাইটআরেস এর পুত্র বলা হয়েছে। আবার রোমান পুরাণ অনুসারে ভালোবাসার দেবী ভেনাস ও যুদ্ধের দেবতা মার্সের পুত্র হল কিউপিড।

     তীর কামান ধারি এরোসের তূণীরে থাকে স্বর্ণ তীর যা কামনা জাগায় ও সীসার তীর যা ঘৃণার সঞ্চার ঘটায়। সে এই তীর দিয়ে দেবদেবী এবং মানুষের হৃদয়ে আঘাত করে তাদের অনুভূতি নিয়ে খেলা করত। এক প্রাচীন গ্রিক পুরান অনুসারে এরোস গ্রিক দেবতা অ্যাপোলো কে সোনার তীর মেরে জলকন্যা ডাফনি -র প্রতি গভীর প্রেম জন্মিয়ে দেয় এবং ডাফনিকে সীসার তীর মেরে অ্যাপোলোর প্রতি ঘৃণার সঞ্চার ঘটায়।


Luca Giordano - Psyche Honoured by the People - WGA09015

    এক রূপক অনুসারে কিউপিডের মাতা ভেনাস এর এক মানবী "সাইকি"-র রূপে এমন হিংসে হলো যে সে তার ছেলেকে বলল যেন সে ওই সাইকি কে এক দানবের প্রেমে ফেলে দেয়। কিউপিড উল্টে এমন ভাবে সাইকির প্রেমে পড়ে যায় যে সে তাকে বিয়ে করে ফেলে। কিন্তু কিউপিড সাইকিকে একটাই শর্ত দেয় এবং তা হল যে সাইকি কখনো কিউপিড এর মুখ দেখতে পাবে না। কিন্তু সাইকি তার কৌতুহল চাপতে না পেরে এক নজর দেখে ফেলে এবং কিউপিড রাগান্বিত হয়ে তাকে ছেড়ে চলে যায়। তখন সাইকি তার প্রেমিকের সন্ধানে বিশ্ব ঘুরে শেষে কিউপিডের সাথে মিলিত হয় এবং অমরত্ব লাভ করে দেবী হিসাবে পরিচিত হয়।